শুভেন্দু মন্ত্রিসভায় দপ্তর বণ্টন: দিলীপের হাতে পঞ্চায়েত, অগ্নিমিত্রার দায়িত্বে নারী ও শিশু কল্যাণ! জানুন কার ঝুলিতে কী?

রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সোমবারই নিজের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দপ্তর ভাগ করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে আয়োজিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই ছোট মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ এবং নবীন— উভয় পক্ষকেই গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কার হাতে কোন দপ্তর
শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁকে পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের পাশাপাশি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালের হাতে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব সামলাবেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। এ ছাড়া, অশোক কীর্তনিয়াকে খাদ্য ও সরবরাহ এবং ক্ষুদিরাম টুডুকে আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আপাতত এই নির্দিষ্ট দপ্তরগুলো বাদে বাকি সমস্ত দপ্তর নিজের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সুশাসন ও আগামীর লক্ষ্য
মুখ্যসচিব ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হওয়া প্রথম বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর সরকার মূলত সুশাসন ও সুরক্ষার ওপর জোর দেবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি জানান, অন্যান্য বিজেপিশাসিত রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গকেও ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে তাঁদের মূল লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, দপ্তর বণ্টনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক এবং সামাজিক সমীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রী নিয়োগ করে সরকার শুরুতেই প্রান্তিক মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে। একইসঙ্গে কৃষি ও পঞ্চায়েত দপ্তরে দিলীপ ঘোষের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে রাখা গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্গঠনে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নতুন প্রশাসনিক বিন্যাস রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদী কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।