দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল বেলডাঙা, পঞ্চায়েত সমিতিতে তালা ঝোলালেন হুমায়ুন কবীর

দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল বেলডাঙা, পঞ্চায়েত সমিতিতে তালা ঝোলালেন হুমায়ুন কবীর

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে বেলডাঙা-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝোলালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নবনির্বাচিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সোমবার দুপুরে অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে আচমকাই শক্তিপুর থানার অন্তর্গত এই সরকারি দপ্তরে হানা দেন তিনি। সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েত সমিতিতে সরকারি প্রকল্পের কাজে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম এবং লুটতরাজ হয়েছে।

আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা

বিধায়কের দাবি অনুযায়ী, ‘দুয়ারে সরকার’ ও ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পে প্রায় ২৮ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন রেজিনগর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী আতাউর রহমানের দিকে। উল্লেখ্য, এই পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী বিউটি বেগম হলেন আতাউর রহমানের স্ত্রী। হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না এই বিশাল অঙ্কের দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসছে, ততক্ষণ পঞ্চায়েত সমিতির তহবিলের কোনও টাকা খরচ করা যাবে না। এই দাবিতেই তিনি সভাপতি ও সহ-সভাপতির ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন।

মাটি মাফিয়া ও বিএলআরও দপ্তরের ভূমিকা

পঞ্চায়েত সমিতির পাশাপাশি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের বিরুদ্ধেও এদিন সরব হন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, বিএলআরও (BLRO) দপ্তরে প্রশাসনিক মদতে লাগামহীন দুর্নীতি চলছে এবং এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী মাটি মাফিয়া চক্র। এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে এবং প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে জলাজমি ভরাট সংক্রান্ত অভিযোগে হুমায়ুন কবীরের স্ত্রীকে ভূমি দপ্তরের পক্ষ থেকে শো-কজ করা হয়েছিল। সেই পুরনো সংঘাতের জেরেই হয়তো জয়ের পর তিনি এই দপ্তরগুলোর ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করছেন। যদিও ব্যক্তিগত ক্ষোভের তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে বিধায়কের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রুখতেই তিনি এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এই ঘটনার ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনিক স্তরে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *