পদ্ম শিবিরে শুভেন্দুর পঞ্চপাণ্ডব, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের পথে নতুন সরকার!

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকারের পথচলা শুরু হলো। সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে গেল সরকারের প্রাথমিক রূপরেখা ও লক্ষ্য। মন্ত্রিসভার প্রথম দফায় শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নেওয়া পাঁচজন হেভিওয়েট নেতার হাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দপ্তর বণ্টন ও নতুন দায়িত্ব
সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিজ্ঞ নেতা দিলীপ ঘোষের কাঁধে দেওয়া হয়েছে গ্রামোন্নয়ন ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে নিশীথ প্রামাণিককে দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তর। নারী ও শিশু কল্যাণের পাশাপাশি পুর-উন্নয়ন সামলাবেন অগ্নিমিত্রা পাল। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষার দায়িত্ব পেয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু এবং খাদ্য ও সমবায় দপ্তরের ভার দেওয়া হয়েছে অশোক কীর্তনিয়ার হাতে।
একগুচ্ছ মেগা সিদ্ধান্তের ঘোষণা
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী ও প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণা করেছে শুভেন্দু-ক্যাবিনেট। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকুরীপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করে আবেদনের বয়সসীমা ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) রাজ্যে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও প্রশাসনিক লক্ষ্য
নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন মনোভাব দেখিয়ে প্রথম বৈঠকেই সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব এবং ভূমি ও রাজস্ব সচিবকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, রাজ্যে বর্তমানে চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে দ্রুত উন্নয়নের গতি সচল করাই এখন এই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরজি কর ইস্যু, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমনের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে চলেছে।