“ভারতের সমস্যায় আমরাও ব্যথিত”, হরমুজ প্রণালী বন্ধের বিষয়ে সাফাই ইরানের

হোরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতার আশঙ্কার মাঝেই ভারতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে মুখ খুলেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের মতো বন্ধুরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক বা অর্থনৈতিক সমস্যায় ইরান একেবারেই খুশি নয়। তবে এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি আমেরিকা ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে দেশটি। ইরানের দাবি, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে তারা বাধ্য হয়েছে।
সংকট ও দায়বদ্ধতার অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যে হামলা চালিয়েছে, তার পাল্টাতেই এই নৌপথ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই পদক্ষেপকে বৈধ দাবি করে তিনি জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য পথে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার দায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকেই নিতে হবে। ইরানের মতে, একটি উপকূলীয় দেশ হিসেবে হোরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার ওপর তাদের নির্ভরতা অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি, কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে।
ভারত-ইরান সম্পর্ক ও ব্রিকস সম্মেলন
ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে ইরান জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের বিশ্বাস, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের ওপর হওয়া হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজনীয়তা ভারত সরকার অনুধাবন করতে পারবে। বাঘাইয়ের মতে, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক কখনোই ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী নয়। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতেই এই সুসম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় তেহরান।
এই কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ১৪-১৫ মে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস (BRICS) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে আসছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ভারত ও ইরান দুই দেশই ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) সদস্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এই সফরটি ভারত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সমন্বয় বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।