বেজিংয়ের পথে ট্রাম্প! শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মেগা বৈঠকে নজরে বাণিজ্য, যুদ্ধ আর বিশ্ব তেলের বাজার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠকটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার রওনা হওয়ার ঠিক আগেই ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা করা।
বাণিজ্যই মূল লক্ষ্য
সফরের শুরুতেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের দুই শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের মধ্যে আলোচনা বাণিজ্য কেন্দ্রিক হবে। তাঁর মতে, ইরান বা অন্যান্য রাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়েও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করা এবং নতুন ভারসাম্য তৈরি করা আমেরিকার জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতের একটি সমাধান খুব শীঘ্রই আসতে পারে।
ভূ-রাজনীতি ও তেল সংকটের ছায়া
বাণিজ্য প্রধান বিষয় হলেও আলোচনার টেবিলে থাকছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের বাজার। ট্রাম্প চান ইরান যেন তাদের আগ্রাসী নীতি থেকে সরে আসে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক থাকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, ইরান বিষয়ে শি জিনপিংয়ের মনোভাব ইতিবাচক। চীন তাদের প্রভাব ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনুক, এটাই ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা।
সঙ্গে থাকছে শক্তিশালী প্রতিনিধি দল
প্রেসিডেন্টের এই বিশেষ সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ। বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়াও আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় কো ম্পা নিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) একটি বড় দল এবং ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরাও এই সফরে অংশ নিচ্ছেন, যা এই সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ট্রাম্প-শি বৈঠকের ফলাফলের দিকে, কারণ এই আলোচনার প্রভাব সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর পড়বে।