হাওড়ায় তৃণমূল নেতার চারতলা বাড়িতে বিলাসবহুল গোপন আস্তানা, তাজ্জব দুঁদে পুলিশ কর্তারা!

কলকাতার পার্শ্ববর্তী হাওড়ার শিবপুর এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে তৃণমূল নেতা শামীম আহমেদ ওরফে বোরের বাড়িতে হদিশ মিলল এক বিশাল ও আধুনিক গোপন আস্তানার। মঙ্গলবার উত্তর শিবপুরের চওড়া বস্তি এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ওই নেতার চারতলা বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশিতেই বেরিয়ে আসে বাড়ির ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা এক বিলাসবহুল আস্তানা, যা দেখে রীতিমতো হতবাক তদন্তকারী আধিকারিকরা।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গোপন যাতায়াত পথ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শামীম আহমেদের ওই চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার মাঝখানে একটি গোপন তলা তৈরি করা হয়েছিল। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে সেখানে কোনো ঘর রয়েছে। ঘরের ভেতর থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে বানানো সিঁড়ি দিয়ে এই বিশেষ আস্তানায় যাতায়াত করা যেত। গোপন এই আস্তানাটি অত্যন্ত রাজকীয় ও আধুনিক আসবাবপত্রে সজ্জিত ছিল। প্রতিবেশীদের কাছেও এই রহস্যময় আস্তানার খবর অজানা ছিল। তল্লাশির সময় অভিযুক্ত শামীম এবং তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন কাউন্সিলর শামীমা বানু কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে শিবপুর থানার পুলিশ বাড়িটি সিল করে দিয়েছে।
অপরাধের খতিয়ান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিন বছর আগে শিবপুরে রামনবমীর মিছিলে হামলার ঘটনায় এনআইএ (NIA) তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। দীর্ঘ সময় জেল খাটার পর কয়েকমাস আগেই সে জামিনে মুক্ত হয়। এছাড়াও পুলিশ স্টেশন ভাঙচুর এবং সম্প্রতি বিজেপি কর্মীর বাড়িতে বোমা মারার ঘটনায় তার নাম জড়িয়েছে। এলাকায় সে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত।
রাজনৈতিক মহলে শামীমের ঘনিষ্ঠতা স্থানীয় বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও, সংশ্লিষ্ট বিধায়ক দাবি করেছেন যে এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা স্বাভাবিক, তবে কেউ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সেরে গা-ঢাকা দেওয়ার জন্যই এই বিশেষ গোপন আস্তানাটি তৈরি করা হয়েছিল। পলাতক এই নেতার খোঁজে বর্তমানে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।