মেসিকাণ্ডে বিস্ফোরক শতদ্রু দত্ত, যুবভারতীর লজ্জাজনক অধ্যায়ে এবার নতুন মোড়

কলকাতার ফুটবল ইতিহাসে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর এক কলঙ্কিত দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ১৪ বছর পর লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরেই তিনি প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও টিকিট আদায়ের মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন।
আয়োজকের বিস্ফোরক দাবি ও অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা
শতদ্রু দত্তের অভিযোগ অনুযায়ী, ইভেন্ট চলাকালীন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বিপুল পরিমাণ টিকিট ও অ্যাক্সেস কার্ডের জন্য অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। শতদ্রুর দাবি, প্রতিবাদ জানালে তাঁকে শুনতে হয়েছিল, “মাঠ তো আমার, আমি তোর থেকে পারমিশন নেব কেন?” শুধু তাই নয়, বিশ্বজয়ী ফুটবলারের ব্যক্তিগত পরিসর লঙ্ঘন করে তাঁর গায়ে হাত দিয়ে ছবি তোলা এবং পরিবারের সদস্যদের ডেকে আনাকেও চূড়ান্ত অশোভনীয় বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। শতদ্রুর মতে, রাজনৈতিক প্রভাব না থাকায় তাঁকে বলির পাঁঠা বানিয়ে জেল খাটানো হয়েছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ঘটনার প্রভাব ও বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ
২০১১ সালে মেসির প্রথম কলকাতা সফর যেখানে ছিল উৎসবের, সেখানে ২০২৫-এর ঘটনা শহরবাসীর কাছে চরম লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশৃঙ্খলার জেরে মেসির তিতিবিরক্ত হয়ে মাঠ ছাড়া এবং পরবর্তীতে উন্মত্ত সমর্থকদের স্টেডিয়াম ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ব ফুটবলের দরবারে কলকাতার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ‘মেসিকাণ্ডের’ ফাইল নতুন করে খোলার ঘোষণা দিয়েছেন। আগের সরকারের সময় হওয়া এই বিশৃঙ্খলার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে কড়া আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। তবে হাজার হাজার টাকা ব্যয়ে টিকিট কেনা সাধারণ দর্শকরা তাঁদের ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।