পকসো মামলা নিয়ে কঠোর লালবাজার, অপরাধীদের দমনে কি কোনো আপস করবে না পুলিশ?

নাবালিকা নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ রোধে এবার বেনজির কড়া পদক্ষেপের পথে কলকাতা পুলিশ। শহরের অমীমাংসিত প্রায় ৩০০টি পকসো (POCSO) মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং চার্জশিট পেশের জন্য থানার ওসিদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। মঙ্গলবার আলিপুর বডিগার্ড লাইনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, অপরাধীর পরিচয় যাই হোক না কেন, কোনো রকম রাজনৈতিক রং না দেখেই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা হিংসার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে আপসহীন হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাল্যবিবাহ রোধে রাজা রামমোহন রায়ের আদর্শের স্মরণ
বৈঠকে পুলিশ কমিশনার আধুনিক ভারতের অন্যতম পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায়ের প্রসঙ্গ টেনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যে কলকাতায় বসে রামমোহন রায় বাল্যবিবাহ রোধের লড়াই করেছিলেন, সেই শহরেই আজও নাবালিকা বিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি টিকে আছে। অনেক ক্ষেত্রে নাবালিকারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার পর পরিবার তা মেনে নিচ্ছে। এই ঘটনাগুলি সাধারণত অগোচরে থাকলেও প্রসবের সময় হাসপাতালে গেলে বিষয়টি সামনে আসে। কমিশনারের নির্দেশ, খবর পাওয়ামাত্রই বিয়ে রুখতে হবে এবং যারা এই কাজে মদত দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও পকসো ও বাল্যবিবাহ রোধ আইনে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে।
অমীমাংসিত মামলার জট ও তদন্তে গতি আনার নির্দেশ
লালবাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে কলকাতায় প্রায় ৩০০টি পকসো মামলার নিষ্পত্তি হয়নি, যার বড় অংশই ঝুলে আছে চার্জশিট জমা না পড়ার কারণে। এর ফলে অনেক অপরাধী জামিন পেয়ে যাচ্ছে, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে কমিশনার স্পষ্ট করেছেন যে, মহিলা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ পাওয়ামাত্রই দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হবে। তদন্তের গুণগত মান ও সাক্ষ্যপ্রমাণ মজবুত করতে ফরেনসিক বিভাগের আধুনিকীকরণের ওপরও জোর দিচ্ছে লালবাজার। পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও প্রশস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।