লক্ষ্য এবার ফলতা, ২০৮ জন বিধায়কের লক্ষ্যপূরণে কোমর বেঁধে নামছে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে ময়দানে নামল বিজেপি। রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর বর্তমানে দলীয় বিধায়ক সংখ্যা ২০৭। তবে এই সংখ্যাকে ২০৮-এ উন্নীত করতে এখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিধাননগরের দলীয় কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাধ্যমে এই বিশেষ নির্বাচনী প্রস্তুতির সূচনা করা হয়েছে।
ফলতা জয়ে বিশেষ রণকৌশল
গত ৯ মে রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার শপথ গ্রহণ করেছে। নবগঠিত সরকারের ব্যস্ততার মাঝেই মঙ্গলবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন ভোট নিয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এই আসনটি জিতে নিজেদের শক্তি আরও বাড়াতে চাইছে শাসক দল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যার মধ্যে জ্যোতির্ময় মাহাতো, সৌমিত্র খাঁ এবং রাজ্য সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীর নাম উল্লেখযোগ্য।
প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও সাংগঠনিক তৎপরতা
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর কাঁধে এখন দ্বিমুখী দায়িত্ব। একদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগদান ও কলকাতায় ফিরে লোক ভবনে প্রোটেম স্পিকারের শপথসহ একাধিক সরকারি কাজ সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ দপ্তর বণ্টন এখনও বাকি থাকায় প্রশাসনিক চাপও প্রবল। এই ব্যস্ততার মধ্যেও সন্ধ্যাবেলা দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ফলতা জয়ের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও আগামীর পথ
২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৮-এ পৌঁছানো বিজেপির জন্য কেবল একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক জয় নয়, বরং এটি সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার একটি নতুন মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলতায় জয় পেলে বিধানসভায় শাসক দলের অবস্থান আরও সুসংহত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রমাণ করে যে, বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পরও বিজেপি কোনো কেন্দ্রকেই হালকাভাবে নিতে নারাজ। এই উপ-নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে।