শব্দচয়ণেও বদলের বার্তা, ‘অনুপ্রেরণা’ মুক্তিতে প্রশাসনিক সংস্কারের নতুন দিগন্ত

শব্দচয়ণেও বদলের বার্তা, ‘অনুপ্রেরণা’ মুক্তিতে প্রশাসনিক সংস্কারের নতুন দিগন্ত

বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত হতে হতে যে শব্দটি প্রায় তার জৌলুস হারিয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই ‘অনুপ্রেরণা’ শব্দটিকে মুক্ত করলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি প্রতিটি কাজের ফলক থেকে শুরু করে তোরণ বা লিফলেটে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায়’—এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার এই পদক্ষেপকে ভাষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন বাংলার প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এক নতুন রুচিবোধ ও ব্যক্তিত্বের উত্তরণ হিসেবে।

ভাষার মর্যাদা ও শব্দের হৃত কৌলীন্য

বাংলা ভাষায় ‘অনুপ্রেরণা’ একটি গভীর ব্যঞ্জনাধর্মী শব্দ। সৃজনশীলতা, মহৎ উদ্দেশ্য বা কোনো আদর্শের পথে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি বোঝাতে এই শব্দের বিকল্প মেলা ভার। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের বিজ্ঞাপনে যত্রতত্র এই শব্দের ব্যবহারের ফলে তা অনেকটা ‘ক্লিশে’ বা জীর্ণ হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনিক কোনো কর্মসূচির সাথে একজন ব্যক্তির নাম ও অনুপ্রেরণাকে বাধ্যতামূলকভাবে জুড়ে দেওয়া এক ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই নিষেধাজ্ঞার ফলে শব্দটি তার আদি আভিজাত্য ও সৃজনশীল অনুষঙ্গে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেল।

ব্যক্তি নয়, জনকল্যাণই এখন অগ্রাধিকার

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার প্রথম ভাষণেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকারি কাজ কোনো ব্যক্তির অনুপ্রেরণায় নয়, বরং মানুষের প্রয়োজনে এবং মানুষের জন্যই পরিচালিত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি শব্দের পরিবর্তন নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। পূর্বতন সরকারের জমানায় সর্বত্র ‘নীল-সাদা’ রঙের মতো ‘অনুপ্রেরণা’ শব্দটিও ছিল ক্ষমতার অবিচ্ছেদ্য চিহ্ন। সেই চিরাচরিত ধারা ভেঙে সরকারি কাজে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই ‘স্মার্ট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন ভাষাগত আড়ষ্টতা দূর হলো, তেমনি সরকারি কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *