বর্ডার সিল করার সিদ্ধান্তে কাঁপছে ওপার বাংলা! শুভেন্দুর পদক্ষেপে হুঁশিয়ারি ঢাকা থেকে

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেষ্টনী মজবুত করার প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হতেই ওপার বাংলায় বাড়ছে ভারত-বিরোধী বাগাড়ম্বর। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-কে দ্রুত জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পর এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ নেতা নাহিদ ইসলাম। ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষ নিজেরাই সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব হাতে তুলে নেবে।
সীমান্তে কড়াকড়ি ও শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা
দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সীমান্ত জেলাগুলোর প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পরপরই বিএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে জমি সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো নিশ্ছিদ্র কাঁটাতারের বেষ্টনী নির্মাণ।
নাহিদ ইসলামের উস্কানিমূলক বক্তব্য ও প্রভাব
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন, কাঁটাতারের বেষ্টনী দিয়ে প্রকৃত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে নিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে এবং ভারতে মুসলিমরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি। নাহিদ ইসলামের মতে, প্রতিবেশী দেশের জনগণই একদিন এই কাঁটাতারের বেষ্টনী উপড়ে ফেলে বাংলাদেশের সাথে নতুন সম্পর্ক তৈরি করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের বিরুদ্ধে এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে ভারত যখন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে কড়াকড়ি করছে, তখন বাংলাদেশের প্রভাবশালী মহলের এই ধরনের হুঁশিয়ারি সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ‘জনগণ সীমান্ত সামলাবে’—এমন মন্তব্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।