৩০ লাখে নিটের প্রশ্ন কেনাবেচা, রাজস্থানে দুই ভাই গ্রেফতার

৩০ লাখে নিটের প্রশ্ন কেনাবেচা, রাজস্থানে দুই ভাই গ্রেফতার

ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (ইউজি)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গুরুগ্রামের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র কেনার অভিযোগে রাজস্থানের জামওয়া রামগড় থেকে মাঙ্গিলাল ও দিনেশ বিওয়াল নামে দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দিনেশ একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় এবং পরীক্ষার প্রায় মাসখানেক আগেই তারা প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি জানত।

যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল ফাঁসের জাল

তদন্তে উঠে এসেছে যে, গত ২৬ এপ্রিল প্রশ্নপত্রটি হাতে পাওয়ার পর মাঙ্গিলাল তা সিকরে অবস্থানরত তাঁর ছেলের কাছে পাঠান। পরবর্তীতে সেই প্রশ্ন চড়া দামে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। এই চক্রের অন্যতম মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে এমবিবিএস কাউন্সেলিং এজেন্ট রাকেশ কুমার মাণ্ডওয়ারিয়ার নাম। অভিযোগ রয়েছে, রাকেশ একাই প্রায় ৭০০ ছাত্রছাত্রীর কাছে এই প্রশ্ন পৌঁছে দিয়েছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সিকর থেকে এই প্রশ্নপত্র দ্রুত জম্মু-কাশ্মীর, বিহার, কেরল এবং উত্তরাখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি একটি হোস্টেলের ছাত্রীদের মধ্যেও এই প্রশ্ন বিলি করার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

পুলিশের অনুমান, এই ফাঁসের উৎস নাসিকের কোনো প্রিন্টিং প্রেস। সেখান থেকেই একটি শক্তিশালী চেইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রশ্নটি গুরুগ্রামের ওই চিকিৎসকের কাছে পৌঁছায়। উল্লেখ্য, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষাটি দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে এবং পুরো তদন্তের ভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সিবিআই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার মামলা রুজু করে নাসিক ও রাজস্থানের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণার আশ্বাস দিলেও দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ঘটনার ফলে কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং এনটিএ-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। অনেক শিক্ষার্থী এখন স্বচ্ছতার স্বার্থে এই পরীক্ষাটি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-কে দিয়ে পরিচালনা করার দাবি জানাচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *