ভারত সোনা কেনা বন্ধ করলে দেউলিয়া হবে কোন দেশগুলি? জেনে নিন অবাক করা তথ্য

ভারত সোনা কেনা বন্ধ করলে দেউলিয়া হবে কোন দেশগুলি? জেনে নিন অবাক করা তথ্য

সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিশেষ আবেদন বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপের কথা মাথায় রেখে তিনি দেশবাসীকে অন্তত এক বছরের জন্য ‘অপ্রয়োজনীয়’ স্বর্ণ কেনা স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ভারতের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের স্বর্ণপ্রীতি ও অভ্যন্তরীণ চিত্র

ভারতে সোনা কেবল একটি ধাতু নয়; বরং এটি ঐতিহ্য, উৎসব ও বিপদের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনার চাহিদা থাকে। বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর ফলে প্রতি বছর ভারতকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে ভারতের বার্ষিক সোনা আমদানির বিল প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ও রুপির শক্তি বৃদ্ধি

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতীয় নাগরিকরা যদি সোনা কেনা মাত্র ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়, তবে দেশ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারবে। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার। সোনা আমদানির খরচ কমলে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা চলতি হিসাবের ঘাটতি হ্রাস পাবে, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে রুপির মানকে শক্তিশালী করবে। হিসাব বলছে, সোনা কেনা ৭৫ শতাংশ কমিয়ে দিলে ভারতের রাজকোষে অতিরিক্ত ৪৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা উদ্বৃত্ত থাকবে।

বিশ্ববাজারে অশনি সংকেত ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহ

ভারত সোনা কেনা বন্ধ বা সীমিত করলে তার প্রভাব কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারত মূলত সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে সোনা আমদানি করে। ভারতের চাহিদা কমে গেলে এই দেশগুলোর ‘গোল্ড এক্সপোর্ট’ বা সোনা রপ্তানি বাণিজ্য চরম সংকটে পড়বে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড ও দুবাইয়ের মতো গোল্ড ট্রেডিং হাবগুলোর জন্য ভারত সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ভারতের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে ওই দেশগুলোর সোনা পরিশোধন ও বাণিজ্য শিল্পে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লোকসানের সম্মুখীন হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *