স্বামী বা প্রেমিক নয়, রাতে কার পাশে সবচেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমান মহিলারা? গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য!

স্বামী বা প্রেমিক নয়, রাতে কার পাশে সবচেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমান মহিলারা? গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য!

সাধারণ ধারণা অনুযায়ী মনে করা হয় যে, নারীরা তাদের জীবনসঙ্গী বা সঙ্গীর পাশে ঘুমাতেই সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও চমকপ্রদ তথ্য। গবেষণার ফলাফল বলছে, পুরুষ সঙ্গীর তুলনায় পোষ্য কুকুরের পাশে ঘুমানোর সময় নারীরা অনেক বেশি নিরাপদ এবং আরামদায়ক বোধ করেন।

নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তি

নারীদের এই পছন্দের প্রধান কারণ হিসেবে গবেষকরা ‘নিরাপত্তাবোধ’কে চিহ্নিত করেছেন। রাতে পোষ্য কুকুর পাশে থাকলে কোনো অপরিচিত আগন্তুকের উপস্থিতিতে তারা দ্রুত সতর্ক সংকেত পায়, যা নারীদের মনে এক ধরনের গভীর আস্থার জন্ম দেয়। এই মানসিক নিশ্চিন্ততা তাদের উদ্বেগ কমিয়ে দ্রুত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হতে সাহায্য করে। বিপরীতে, মানুষের ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া বা অন্য কোনো কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকে, যা কুকুরের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম।

নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের নিশ্চয়তা

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের সাথে ঘুমানোর ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় হলো সঙ্গীর নাক ডাকার শব্দ। সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে নারীদের ঘুমের গুণমান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এছাড়া মানুষের ঘুমের মধ্যে বারবার অবস্থান পরিবর্তনের অভ্যাস থাকলেও, পোষ্য কুকুরের একটি নির্দিষ্ট রুটিন থাকে। তারা একবার ঘুমালে সাধারণত মালিকের ঘুমে কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না। এমনকি বিড়াল বা ছোট শিশুর তুলনায় কুকুরের ঘুমের শৃঙ্খলা অনেক বেশি উন্নত বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিড়াল বনাম কুকুর

এই গবেষণায় বিড়ালের সাথে ঘুমের তুলনামূলক বিশ্লেষণও করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, বিড়াল সাধারণত রাতে অনেক বেশি সক্রিয় থাকে, যা মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া কুকুরের মতো বিড়াল সেভাবে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়। সামগ্রিকভাবে, ঘুমের মান উন্নয়ন এবং মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিড়াল বা মানুষ—উভয়কেই পেছনে ফেলে কুকুর প্রথম স্থান দখল করেছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে মানুষের জীবনযাত্রায় পোষ্য প্রাণীর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *