হোটেলে রুম নম্বর ২০৫: ২৩ বছরের তরুণ ও বিবাহিত প্রেমিকার রহস্যমৃত্যু, ঘনীভূত রহস্য

উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে পরকীয়া সম্পর্কের টানাপোড়েনে এক যুবক ও এক বিবাহিত নারীর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত রবিবার (১০ মে) নওয়াবাদ থানা এলাকার ‘হোটেল রয়্যাল ইন’-এর ২০৫ নম্বর কক্ষে বিষ পান করেন ২৩ বছর বয়সী যুবক যুবরাজ যাদব এবং ৩৪ বছর বয়সী ভারতী। হোটেল কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দিলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
হোটেল কক্ষে উদ্ধার ও মৃত্যু
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হোটেলের কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুজনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে ঝাঁসি মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়। মৃত যুবরাজ চিরগাঁওয়ের আউপারা গ্রামের বাসিন্দা এবং বিএ শেষ করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, ভারতী ছিলেন এক সন্তানের জননী এবং যুবরাজের প্রতিবেশী।
পরিবারের অভিযোগ ও নেপথ্যের কারণ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভারতী তাঁর স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে যুবরাজদের প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করতেন। সেই সূত্র ধরেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে যুবরাজের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, বয়সে ১১ বছরের বড় ভারতী যুবরাজকে ব্ল্যাকমেইল করে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিলেন। পরিবারের দাবি, ভারতীই যুবরাজকে হোটেলে ডেকে নিয়ে প্রথমে বিষ খাইয়েছেন এবং পরে নিজে বিষ পান করেছেন।
তদন্ত ও প্রভাব
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং হোটেলের নথিপত্রসহ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা নাকি পারস্পরিক সম্মতিতে আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে দুই পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। আসামবয়সী প্রেম এবং সামাজিক ও পারিবারিক চাপের কারণেই এই তরুণ প্রাণ অকালে ঝরে গেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।