দুই বেলা কাজের জন্য মাত্র ৩৫০০ টাকা! গৃহকর্মীর পারিশ্রমিক ‘নিয়ন্ত্রণ’ করতে চেয়ে চরম ট্রোলড এইচআর

বেঙ্গালুরুর এক ফ্রিল্যান্স এইচআর কনসালট্যান্টের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নিজের আবাসন অ্যাপে গৃহকর্মীর বেতন নির্ধারণ ও তা নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে তিনি যে যুক্তি দিয়েছেন, তাকে ‘অমানবিক’ এবং ‘সংবেদনহীন’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন নেটিজেনরা। দুই বেলা কাজের জন্য মাত্র ৩,৫০০ টাকা বেতন প্রস্তাব করে তিনি গৃহকর্মীদের পারিশ্রমিককে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটদের বেতনের সাথে তুলনা করেছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত ও অদ্ভুত সমীকরণ
সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সকাল এবং বিকেল—দুই বেলা কাজের জন্য তিনি মাসে ৩,৫০০ টাকা দেবেন। কেউ এক বেলার জন্য সমপরিমাণ অর্থ দাবি করলে তাকে যেন না পাঠানো হয়। তার মতে, এক বেলার কাজের জন্য ২,৫০০ টাকা হওয়াই যুক্তিসঙ্গত। নিজের দাবির স্বপক্ষে তিনি এক অদ্ভুত গাণিতিক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন। তার দাবি, একজন গৃহকর্মী যদি দিনে ১০ ঘণ্টা বা ১০টি বাড়িতে কাজ করেন, তবে তার মাসিক আয় হবে ২৫,০০০ টাকা। এই আয় বিপিও কর্মী বা টায়ার-৩ পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটদের প্রাথমিক বেতনের চেয়েও বেশি। তাই এই ‘অতিরিক্ত’ আয় রুখতে আবাসনের সকল বাসিন্দাকে গৃহকর্মীদের বেতন নির্দিষ্ট সীমায় বেঁধে রাখার বা নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ জানান তিনি।
শ্রমের মর্যাদা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এই পোস্টের স্ক্রিনশট দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় বইছে। সমালোচকদের মতে, বেঙ্গালুরুর মতো ব্যয়বহুল শহরে যেখানে চড়া দামে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয়, সেখানে গৃহকর্মীর শ্রমকে এভাবে অবমূল্যায়ন করা চরম নীচতার পরিচয়। শারীরিক পরিশ্রমকে প্রযুক্তিগত পেশার সাথে তুলনা করে বেতন কমানোর এই মানসিকতাকে অনেকেই ‘শ্রমিক শোষণের আধুনিক রূপ’ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজে শ্রমের মর্যাদাহানি ঘটায় এবং উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মধ্যেকার সামাজিক বৈষম্যকে আরও প্রকট করে তোলে। একজন পেশাদার এইচআর কনসালট্যান্ট হয়েও ন্যূনতম মজুরি ও মুদ্রাস্ফীতির মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে এমন মন্তব্য করায় পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ট্রোলিংয়ের শিকার হওয়া এই ঘটনাটি বর্তমানে ভারতের শহুরে কর্মসংস্কৃতি ও শ্রম অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।