তিলোত্তমার দেহ তড়িঘড়ি সৎকার, প্রাক্তন বিধায়ক ও চেয়ারম্যানের গ্রেফতারি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ পরিবার

আরজি করকাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে এবার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করলেন তিলোত্তমার বাবা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দাবি জানিয়ে শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। অভিযুক্ত তালিকায় প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ ছাড়াও রয়েছেন পাণিহাটি পৌরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।
তথ্যপ্রমাণ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ
তিলোত্তমার পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করার নেপথ্যে এই তিনজনের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে মর্মান্তিক ঘটনার পর ওই দিন সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনার পাণিহাটি শ্মশানে নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, এই দ্রুত সৎকার প্রক্রিয়াটি ছিল পরিকল্পিত, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক তথ্য নষ্ট করা যায়। শ্মশানের নথিপত্রে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের সই থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও দানা বাঁধে।
পুরস্কার না কি ষড়যন্ত্র?
ঘটনার সময় সোমনাথ দে পাণিহাটি পৌরসভার কাউন্সিলর থাকলেও পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তাঁকে চেয়ারম্যান পদে আসীন করা হয়। বিরোধীদের দাবি ছিল, প্রমাণ লোপাটে সহায়তা করার ‘পুরস্কার’ হিসেবেই তাঁকে এই পদ দেওয়া হয়েছে। তিলোত্তমার বাবা আদালতে আবেদন করেছেন যেন সিবিআই-কে এই তিন অভিযুক্তকে জেরা ও গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে আরজি কর মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি। যদি আদালত সিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়, তবে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের জট খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই আইনি পদক্ষেপ মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং জড়িত প্রভাবশালীদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।