টাকা ফেরাতে না পেরে কান্নায় ভাঙলেন অযোগ্যরা, জেলের ভাত খাওয়ার আরজি ‘অযোগ্য’ কর্মীদের

রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ‘অযোগ্য’ কর্মীদের থেকে বেতন ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হতেই চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। আদালতের নির্দেশে বিপুল পরিমাণ টাকা ফেরতের চাপে এখন দিশেহারা কয়েক হাজার চাকরিহারা। সম্প্রতি শিলিগুড়ির এক গ্রুপ-ডি কর্মীর আর্তনাদ এই সংকটের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যেখানে তিনি টাকা ফেরানোর বদলে জেল খাটতেও রাজি বলে জানিয়েছেন।
২৫ লক্ষের বোঝা ও নিঃস্ব হওয়ার আতঙ্ক
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের প্যানেলে নিয়োগ পাওয়া গ্রুপ-ডি কর্মীদের একটি বড় অংশকে পর্যায়ক্রমে বেতন ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গ্রুপ-ডি তেই রয়েছেন প্রায় সাড়ে তিনশো জন এবং ‘দাগি’ শিক্ষকের তালিকায় নাম রয়েছে ১৮০৬ জনের। হিসাব বলছে, এক একজন কর্মীকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফেরত দিতে হতে পারে। শিলিগুড়ির নেতাজি হাই স্কুলের চাকরিহারা কর্মী দিব্যেন্দু চাকি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তাঁর পক্ষে এত বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা আসাম্ভব। বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থায় স্বল্প বেতনে কাজ করে সংসার চালানো এই কর্মীর দাবি, সরকার বা দুর্নীতির হোতারা লাভবান হলেও দায় এখন তাঁদের ওপর এসে বর্তেছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ
দীর্ঘদিন ধরে বেতন ফেরতের বিষয়টি ঝুলে থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। শিক্ষা দফতর থেকে প্রতিটি জেলাশাসকের কাছে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত টাকা আদায়ের পর ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দেওয়া হয়। এই প্রশাসনিক সক্রিয়তার ফলেই মূলত এখন সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা।
দুর্নীতির নেপথ্যে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন
চাকরিহারাদের অনেকেরই অভিযোগ, তাঁরা সিস্টেমের শিকার হয়েছেন। দিব্যেন্দুর মতো অনেকেই দাবি করছেন যে তাঁরা সাদা খাতা জমা দেননি, তবুও কেন তাঁদের ‘টেইন্টেড’ তালিকায় রাখা হলো তা স্পষ্ট নয়। চাকরিহারাদের একাংশের ক্ষোভ, দুর্নীতির কারণে মন্ত্রী বা প্রভাবশালীরা জেলের ঘানি টানলেও আর্থিক বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ স্তরের কর্মীদের। এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার ফলে অযোগ্য তকমা পাওয়া পরিবারগুলো এখন সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আদতে এই বিপুল অর্থ সরকারি কোষাগারে কত দ্রুত ফিরবে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।