সীমানায় পুলিশি জুলুম বন্ধ! আলু-সবজি ভিন রাজ্যে পাঠানো এখন অবাধ, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

কলকাতা: ভোটপ্রচারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভিন রাজ্যে আলুসহ যে কোনো কৃষিপণ্য পাঠানোর পথ সুগম হলো। গত কয়েক বছর ধরে আন্তঃরাজ্য সীমান্তে কৃষিপণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে যে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা ছিল, তা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চিরতরে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
বন্ধ হলো আগের সরকারের ‘নিষেধাজ্ঞা’
মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানান, বিগত সরকারের সময় জারি করা বিধিনিষেধের কারণে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘকাল চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আগের সরকারের জারি করা সেই পুরোনো নোটিফিকেশন বাতিল করে কৃষি বিপণন দপ্তর নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। এই তালিকার মধ্যে আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজি, ফলমূল ছাড়াও রয়েছে খাদ্যশস্য, তেলবীজ এবং প্রাণিজ পণ্য। এখন থেকে দেশের যে কোনো রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই পণ্যগুলি পাঠাতে পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো দপ্তর আর বাধা দিতে পারবে না।
সীমান্তে হয়রানি রুখতে কড়া বার্তা
চাষিদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি প্রশাসনকেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আন্তঃরাজ্য সীমান্তে কোনো আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা পুলিশ বাহিনী চাষি কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি করতে পারবে না। ট্রাক চলাচলে অযথা বাধা দেওয়া বা ‘জুলুম’ বন্ধ করতে পুলিশ ও পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্ডারে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকার সমস্যা মিটবে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।
কৃষক কল্যাণে প্রভাব ও সম্ভাবনা
নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে আলু চাষিদের দুর্দশা একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা সরাসরি উপকৃত হবেন। ভিন রাজ্যের বাজার অবাধ হওয়ার ফলে আলুর সঠিক দাম পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়েদের দৌরাত্ম্য কমবে, অন্যদিকে চাষিরা সরাসরি লাভের মুখ দেখতে পাবেন। মূলত কৃষি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো।