প্লাস্টিক তাড়াবে শ্যাওলা! পানীয় জল বিষমুক্ত করতে বিজ্ঞানীদের অবিশ্বাস্য আবিষ্কার

মানুষের অজান্তেই পানীয় জলের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করছে অতি সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক। প্রথাগত জল শোধনাগারগুলি বড় প্লাস্টিক আটকাতে পারলেও এই ক্ষুদ্র কণাগুলো দূর করতে ব্যর্থ। এই বিশ্বজনীন সমস্যার সমাধানে এবার এক অভিনব কৌশল উদ্ভাবন করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিসৌরির বিজ্ঞানীরা। জেনেটিক্যালি মডিফায়েড বা জিনগতভাবে পরিবর্তিত শ্যাওলা ব্যবহার করে জল থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছেঁকে ফেলার এই পদ্ধতি পরিবেশ বিজ্ঞানে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
শ্যাওলার কার্যকর কৌশল
অধ্যাপক সুসি ডাইয়ের নেতৃত্বে একদল গবেষক ল্যাবে এমন এক ধরনের শ্যাওলা তৈরি করেছেন যা ‘লাইমোনিন’ নামক একটি প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণ করে। এই তেল শ্যাওলার উপরিভাগকে জল-বিকর্ষী করে তোলে। প্রকৃতিগতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিকও জল থেকে দূরে থাকতে চায়, যার ফলে দূষিত জলে এই শ্যাওলা মেশালে প্লাস্টিকের কণাগুলো চুম্বকের মতো শ্যাওলার গায়ে আটকে যায়। পরবর্তীতে শ্যাওলা ও প্লাস্টিক একত্রে ঘন দলা পাকিয়ে জলের নিচে থিতিয়ে পড়ে, যা সহজেই জল থেকে আলাদা করা সম্ভব হয়।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সম্ভাবনা
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কেবল জল পরিশোধনই নয়, বরং উদ্ধার করা প্লাস্টিককে রিসাইকেল করে নিরাপদ বায়োপ্লাস্টিক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বিজ্ঞানীদের। গবেষণাগারে ইতিমধ্যে ১০০ লিটারের ‘শ্রেক’ নামক বায়োরিয়্যাক্টর ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি শিল্প-কারখানার বর্জ্য জল শোধন এবং বড় আকারের জল শোধনাগারগুলোতে যুক্ত করা গেলে পরিবেশগত দূষণ নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে এই বিশেষ শ্যাওলা জল থেকে অতিরিক্ত পুষ্টি শোষণ করে জলকে আরও বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করবে।