এক সপ্তাহেই ফাঁস হবে দুর্নীতির বড় চক্র, হুঁশিয়ারি খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার

রাজ্যের খাদ্য দপ্তরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতির পাহাড় সরাতে এবার সরাসরি সম্মুখসমরে বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই দপ্তরকে স্বচ্ছ করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন তিনি। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই দপ্তরের বড়সড় দুর্নীতির চক্র ফাঁস হতে চলেছে। তাঁর এই কড়া বার্তার নিশানায় রয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকসহ পূর্বতন দপ্তরের একাধিক প্রভাবশালী মুখ।
ফাইল খোলার কড়া নির্দেশ ও দুর্নীতির উৎস
খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া অভিযোগ করেছেন, গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের সাধারণ মানুষকে যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়েছে, তার গুণমান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং তা খাওয়ার অযোগ্য ছিল। রেশন ডিলার ও হোলসেলারদের একাংশের যোগসাজশে চলা এই আর্থিক অনিয়মের তদন্তে তিনি ইতিমধ্যে আধিকারিকদের তলব করেছেন। মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, আগের মন্ত্রীদের আমলে হওয়া প্রতিটি আর্থিক লেনদেন এবং ফাইলের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে তিনি বিভাগীয় আধিকারিকদের মাত্র এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এই কাজে কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং দুর্নীতির প্রমাণ পেলেই নেওয়া হবে কঠোর আইনি পদক্ষেপ।
রেশন ব্যবস্থায় বড় বদল ও কড়া নজরদারি
জুন মাস থেকেই রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। এখন থেকে রেশন দোকানে প্যাকেটজাত আটার বদলে উন্নতমানের ফ্রেশ গম ও চাল দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমি রথীন ঘোষ বা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নই যে শুধু অফিসে বসে থাকব।” তিনি ঘোষণা করেছেন যে, কোনো আগাম বার্তা না দিয়েই তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রেশন দোকান ও গুদাম পরিদর্শনে যাবেন।
এই অভিযানের সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে মনে করা হচ্ছে, রেশন ডিলারদের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া কারবারে টান পড়বে। জুন মাস থেকে যদি কোনো ডিলার নিম্নমানের চাল বা গম সরবরাহ করেন, তবে তৎক্ষণাৎ তাঁদের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আধার সংযোগহীন বা ভারতের বৈধ নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের রেশন কার্ড চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হচ্ছে। এর ফলে রাজ্য সরকারের কোষাগারের বিপুল সাশ্রয় হবে এবং প্রকৃত গ্রাহকদের কাছে উন্নতমানের খাদ্যশস্য পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।