পরীক্ষা নিতেই নাজেহাল NTA! প্রশ্ন ফাঁস রুখতে এবার কি ‘হাইব্রিড মডেলে’ হবে নিট?

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ) এখন তাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে। এনটিএ-র শীর্ষ কর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন নতুন পরীক্ষার তারিখ এবং ভবিষ্যতের সুরক্ষিত পরীক্ষা মডেল নিয়ে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন হলে তা জুন মাসের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে এজেন্সি এখন নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয় তৈরিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
আসছে হাইব্রিড নিট মডেল
পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে ‘হাইব্রিড নিট মডেল’ নিয়ে সবথেকে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র আগের মতো ঢালাওভাবে ছাপিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে না। পরিবর্তে, এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল ফরম্যাটে প্রশ্নপত্র সরাসরি পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে সুরক্ষিত সার্ভার স্থাপন করা হবে এবং পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে উচ্চ গতির প্রিন্টারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি নজরদারি ও কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে পরিবহনের সময় প্রশ্ন ফাঁসের ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করা যায়।
কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষার সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা
নিট পরীক্ষাকে পুরোপুরি কম্পিউটার ভিত্তিক (সিবিটি) করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। তবে ২০ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর জন্য এই ব্যবস্থা করা এনটিএ-র জন্য বেশ কঠিন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং পর্যাপ্ত কম্পিউটার ল্যাবের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রাথমিকভাবে ডিজিটাল ডেলিভারি এবং কেন্দ্রে প্রশ্ন ছাপানোর হাইব্রিড মডেলটিকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যেখানে পরীক্ষা হবে ওএমআর শিটেই। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটিকে সিবিটি মডেলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
একাডেমিক সেশন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
নতুন করে পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। জুলাইয়ে পরীক্ষা হলে ফলাফল প্রকাশ হতে আগস্ট-সেপ্টেম্বর গড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে কাউন্সেলিং শেষ করে নতুন মেডিকেল সেশন শুরু হতে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত দেরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিলম্বিত শিক্ষাবর্ষের কারণে বিশাল সিলেবাস শেষ করা ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের জন্য একটি বড় মানসিক ও পড়াশোনার চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।