সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী না করলে ওয়ানড় ভুলে যান, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে কড়া হুঁশিয়ারি কেরল কংগ্রেসের

কেরল বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ৯ দিন কেটে গেলেও এখনও অমীমাংসিত মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের বিষয়টি। অন্যান্য রাজ্যে নতুন সরকার শপথ নিলেও দক্ষিণের এই রাজ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর অন্দরে কুর্সি নিয়ে লড়াই তুঙ্গে। বর্তমানে লড়াই মূলত হাইকম্যান্ডের আস্থাভাজন কে সি বেণুগোপাল এবং বিধানসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আঁচ এখন এতটাই প্রবল যে, হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহের সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল স্তরের কর্মীরা।
নেতৃত্বের পছন্দ বনাম কর্মীদের দাবি
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেরলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। সূত্রের খবর, কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের অধিকাংশ প্রাক্তন সভাপতি এবং কার্যনির্বাহী সভাপতিরাই কে সি বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। ১০ জন প্রভাবশালী নেতার মধ্যে ৭ জনই বেণুগোপালের পক্ষে সওয়াল করেছেন, যেখানে সতীশন পেয়েছেন মাত্র ২ জনের সমর্থন। যদিও প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন, তবে নিচুতলার কর্মীরা তা মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, নির্বাচনে ইউডিএফ-এর বড় জয়ের কারিগর ভি ডি সতীশন, তাই তাঁকেই প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে।
নির্বাচনী প্রভাব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
কেরলজুড়ে পোস্টার ও ব্যানারের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মীরা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী না করা হলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর লোকসভা কেন্দ্র ওয়ানড় নিয়ে রাহুলদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ১৪০টি আসনের মধ্যে ১০২টিতে জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও এই অন্তর্দ্বন্দ্ব দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলছে। হাইকম্যান্ডের পছন্দের প্রার্থীকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে কেরলে কংগ্রেসের দীর্ঘস্থায়ী শক্তিক্ষয় হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এখন দেখার বিষয়, রাহুল গান্ধী কর্মীদের আবেগ নাকি নেতাদের সমীকরণকে প্রাধান্য দেন।