জ্বালানি সাশ্রয়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়ে মোদির কনভয়ে ব্যাপক কাটছাঁট

জ্বালানি সাশ্রয়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়ে মোদির কনভয়ে ব্যাপক কাটছাঁট

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় এবার নিজের নিরাপত্তা বহরে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপে দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর, এবার প্রধানমন্ত্রী নিজেও সেই পথে হাঁটছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি দিল্লির রাস্তায় প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে মাত্র দুটি গাড়ি থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।

সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় অ্যাম্বুল্যান্স, জ্যামার ইউনিট এবং এসকর্ট ভ্যানসহ ১২ থেকে ১৫টি গাড়ির একটি বিশাল বহর থাকে। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মাত্র দুটি গাড়ি নিয়ে গন্তব্যে এগোচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারিভাবে এই ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করা না হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি-কে কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিতে আসছে বদল

জ্বালানি সাশ্রয়ের এই পরিকল্পনায় শুধুমাত্র গাড়ির সংখ্যা কমানোই নয়, বরং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কনভয়ে বৈদ্যুতিন বা ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো হয়। তবে এক্ষেত্রে কঠোরভাবে জানানো হয়েছে যে, নতুন কোনো গাড়ি না কিনে বর্তমান সম্পদ ব্যবহার করেই এই পরিবর্তন আনতে হবে। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি না রেখে কীভাবে এই ছোট বহর পরিচালনা করা যায়, তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে এসপিজি।

সংকট মোকাবিলায় কঠোর বার্তা

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ভারতের বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বেই দেশবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, ভোজ্য তেল ও সোনা কেনা কমানো এবং সম্ভব হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নিজের কনভয় ছোট করার মাধ্যমে তিনি মূলত সাধারণ মানুষের কাছে মিতব্যয়িতার একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রীয় খরচ কমার পাশাপাশি আমজনতার মধ্যে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *