স্কুলে হিজাব ও পৈতা পরার অনুমতি, বিজেপির পুরনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল কংগ্রেস সরকার

স্কুলে হিজাব ও পৈতা পরার অনুমতি, বিজেপির পুরনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল কংগ্রেস সরকার

কর্ণাটক রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক ও প্রতীক ব্যবহারের দীর্ঘদিনের বিতর্কে এক বড় ধরনের মোড় নিয়েছে। রাজ্যের বর্তমান কংগ্রেস সরকার পূর্ববর্তী বিজেপি সরকারের আরোপিত হিজাব সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা এখন থেকে নির্ধারিত স্কুল ইউনিফর্মের পাশাপাশি হিজাব, পৈতা, পাগড়ি কিংবা রুদ্রাক্ষের মতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীক পরে ক্লাসে এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সরকারি নির্দেশিকা

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মধু বঙ্গারাপ্পা জানিয়েছেন, সম্প্রতি পরীক্ষার সময় এক শিক্ষার্থীর পৈতা বা জেনেউ খুলে ফেলার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। নতুন নিয়মে পৈতা, পেঠা, পাগড়ি, হিজাব এবং স্কার্ফ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও তা নির্দিষ্ট পোশাক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই এই সংক্রান্ত সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া

২০২২ সালে তৎকালীন বিজেপি সরকার হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। বর্তমান সরকারের দাবি, ধর্মীয় প্রথার কারণে কোনো শিশুর শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে পুনরায় রাজনৈতিক বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী পক্ষ এই ইস্যুটিকে সামনে রেখে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে, যা আসন্ন দিনগুলোতে কর্ণাটকের শিক্ষা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের জন্ম দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *