যেখানে সেখানে পশুহত্যা রুখতে কঠোর রাজ্য, নিয়ম ভাঙলেই জেল-জরিমানার খাঁড়া

কলকাতা: রাজ্যে যত্রতত্র পশুহত্যা রুখতে কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই পশুহত্যার বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় মেনে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। মূলত জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং আদালতের নির্দেশ পালন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি এই নির্দেশিকায় পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে যেখানে সেখানে বা রাস্তার ধারে পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বাধ্যতামূলক শংসাপত্র ও নির্দিষ্ট স্থান
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুর বলির ক্ষেত্রে এখন থেকে নির্দিষ্ট সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পশুহত্যার আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পাশাপাশি সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র সংগ্রহ করতে হবে। পশুহত্যার জন্য শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানা বা স্লটার হাউস ব্যবহার করা যাবে। কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ যদি যথাযথ কারণ ছাড়া শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করেন, তবে ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে নির্দেশিকায়।
শাস্তি ও আইনি প্রভাব
আদালতের রায় এবং রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকা অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে। নিয়ম ভেঙে প্রকাশ্যে পশুহত্যা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত জেল খাটতে হতে পারে অথবা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত জেল ও জরিমানা উভয় দণ্ডই দিতে পারে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মূলত জনসমক্ষে পশুহত্যার নেতিবাচক প্রভাব কমানো এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার লক্ষ্যেই কার্যকর করা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিস্তারিত রায় রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেও দেখা যাবে।