নির্বাচনে ভরাডুবির পর ছন্নছাড়া পুরুলিয়া তৃণমূল, পর্যালোচনা বৈঠকে অনুপস্থিতি ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ডাকা পর্যালোচনা বৈঠকে খোদ প্রার্থীদের অনুপস্থিতি পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের অন্দরে ফাটল আরও স্পষ্ট করে দিল। বুধবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে গরহাজির থাকলেন জেলার দুই হেভিওয়েট প্রার্থী—মানবাজারের প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু এবং কাশীপুরের সৌমেন বেলথরিয়া। শুধু প্রার্থীরাই নন, জেলা পরিষদের ৪২ জন সদস্যের মধ্যে ২৪ জনই এদিনের বৈঠকে আসেননি, যা জেলা নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও সাংগঠনিক স্থবিরতা
বৈঠকের প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে জেলার ৯টি আসনেই তৃণমূল প্রার্থীদের পরাজয়ের নেপথ্যে দায়ী চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও লবিবাজি। দলের অভ্যন্তরে একে অপরের প্রতি প্রতিহিংসামূলক মনোভাবই ভরাডুবির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। গরহাজির থাকা সদস্যদের মধ্যে ২ জন কর্মাধ্যক্ষও রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি দলের মধ্যে হতাশা এবং সমন্বয়হীনতাকেই প্রকট করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী সোমবার জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে পৃথক বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূলের দলনেতা।
ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা ও দলবদলের গুঞ্জন
রাজনৈতিক মহলে প্রবল গুঞ্জন উঠেছে যে, অনুপস্থিত সদস্যদের একাংশ বিজেপির সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো হার মেনে নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে কর্মীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন, তবে উপস্থিত নেতৃত্ব ও পরাজিত প্রার্থীদের চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল হতাশার ছাপ। ব্লক সভাপতিদের কাছ থেকে পরাজয়ের বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হলেও, যেভাবে আগাম তথ্য ছাড়াই তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকা হচ্ছে, তাতে ক্ষোভ বাড়ছে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও। সব মিলিয়ে জঙ্গলমহলের এই জেলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।