আলু-বলয়ে ভরাডুবি তৃণমূলের, শপথের পরেই রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের কৃষি রাজনীতির মানচিত্রে বড়সড় বদল এনে আলু রফতানির ওপর থেকে সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নিল নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। বুধবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালকে পাশে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, পূর্বতন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া আলু রফতানি নীতি বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে চাষি বা ব্যবসায়ীদের আর কোনো প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হবে না। শুধু আলু নয়, অন্যান্য কৃষিজ পণ্যের ক্ষেত্রেও একই শিথিলতা বজায় থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভোটের পালে হাওয়া ও রাজনৈতিক সমীকরণ
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের আলু-বলয় হিসেবে পরিচিত হুগলি ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। ২০২১ সালে পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি আসনের সবকটি তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এবার সেখানে বিজেপি নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করেছে। একইভাবে হুগলির ১৮টি আসনের মধ্যে ১৬টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। তথ্য বলছে, দুই জেলার আলু অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল ২৫টি আসনের মধ্যে ২১টিতেই পদ্মফুল ফুটেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল সরকারের আলু বিপণন ও রফতানি নীতি নিয়ে চাষিদের মধ্যে দানা বাঁধা তীব্র ক্ষোভই এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রধান কারণ।
উন্মুক্ত বাজার ও আগামীর প্রভাব
নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি। ব্যবসায়ীদের মতে, পুলিশের তল্লাশি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে ভিনরাজ্যের বাজার ধরা আসাম্ভব হয়ে পড়েছিল, যা চাষিদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। শুভেন্দু সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপে কৃষকরা সরাসরি খোলা বাজারে ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রফতানি দ্বার উন্মুক্ত হওয়ায় আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে গতির সঞ্চার হবে, যা আলু চাষিদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘোচাতে সহায়ক হতে পারে। মূলত আলু চাষিদের সমর্থন ধরে রাখতেই ক্ষমতা দখলের চার দিনের মাথায় এই মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।