কে হবেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী, জল্পনা শেষে বৃহস্পতিবারই বড় ঘোষণা কংগ্রেসের

কে হবেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী, জল্পনা শেষে বৃহস্পতিবারই বড় ঘোষণা কংগ্রেসের

কেরল বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হলেও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান হতে চলেছে। বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাসভবনে রাহুল গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবারই কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে দল।

১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন জিতে ক্ষমতা দখল করেছে ইউডিএফ। তবে ভোটের ফলাফল ঘোষণার আট দিন পেরিয়ে গেলেও শীর্ষপদে কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে দলের অন্দরে যথেষ্ট দড়িটানাটানি চলেছে। এদিনের বৈঠকের পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানান, বিধায়কদলের সঙ্গে আলোচনা এবং হাইকমান্ডের পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা।

মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে তিন হেভিওয়েট

কেরলের মসনদে বসার লড়াইয়ে মূলত তিনটি নাম নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালকে হাইকমান্ডের প্রথম পছন্দ হিসেবে মনে করা হলেও, দৌড়ে পিছিয়ে নেই বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীশন এবং বর্ষীয়ান নেতা রমেশ চেন্নিতালা। এই তিন নেতার অনুগামীদের মধ্যে চাপানউতোর চলায় সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় নিল দিল্লি। বিশেষ করে বেণুগোপালের বিরোধিতা করে রাহুলের প্রাক্তন কেন্দ্র ওয়েনাড়ের বিভিন্ন জায়গায় বিতর্কিত পোস্টার পড়ায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে।

তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর কেরলে ক্ষমতায় ফিরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামলানোই এখন কংগ্রেসের প্রধান চ্যালেঞ্জ। একদিকে যেমন অভিজ্ঞ চেন্নিতালার দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ার রয়েছে, অন্যদিকে সতীশনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দলের তরুণ প্রজন্মের পছন্দের। আবার হাইকমান্ডের অতি ঘনিষ্ঠ হিসেবে বেণুগোপালের পাল্লাও যথেষ্ট ভারী। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে আসন্ন দিনগুলোতে রাজ্যে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত এই কারণেই সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাহুল-খড়্গেরা একাধিক দফায় বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবারের ঘোষণাই স্পষ্ট করে দেবে, দক্ষিণের এই রাজ্যে কংগ্রেসের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঠিক কী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *