তপসিয়ায় প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডে এবার কোপ পড়ল দমকলের ওপর, সাসপেন্ড হলেন স্টেশন অফিসার

তপসিয়ায় প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডে এবার কোপ পড়ল দমকলের ওপর, সাসপেন্ড হলেন স্টেশন অফিসার

কলকাতার তপসিয়ায় চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখে দমকল বিভাগ। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে প্রগতি ময়দান দমকলকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তথা স্টেশন অফিসার গৌতম দাসকে সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। বুধবার রাজ্য দমকল ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেলের (ডিজি) পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

গাফিলতির অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ

দমকলের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, প্রগতি ময়দান দমকলকেন্দ্রের অধীনে থাকা সংশ্লিষ্ট এলাকায় অগ্নি-নিরাপত্তা আইন কার্যকর করা এবং নিয়মিত পরিদর্শনের ক্ষেত্রে গুরুতর অবহেলা ছিল। স্টেশন অফিসার হিসেবে গৌতম দাসের নজরদারিতে খামতি ধরা পড়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তদন্ত চলাকালীন ওই আধিকারিককে দমকলের সদর দফতরে থাকতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি সেখান থেকে সরতে পারবেন না।

অবৈধ নির্মাণে জিরো টলারেন্স ও বুলডোজার

তপসিয়ার জিজে খান রোডের ওই বহুতলটিতে গত মঙ্গলবার দুপুরে আগুন লাগার পর দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। এই ঘটনার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর বুধবারই ওই অবৈধ বহুতলটি ভাঙতে বুলডোজার নামানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শহরে গজিয়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করছে। কসবা, তিলজলা বা মোমিনপুরের মতো এলাকায় এই ধরণের নির্মাণ চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

মঙ্গলবার দুপুরে চামড়ার কারখানায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা আটকা পড়েন। দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুনের তীব্রতা এবং ঘিঞ্জি পরিবেশের কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়। এই ঘটনায় প্রাণহানি ও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পর প্রশাসনিক এই তৎপড়তা মূলত সরকারি স্তরে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও অবৈধ নির্মাণ নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এমন বড় বিপর্যয় না ঘটে, তার জন্যই এই শাস্তিমূলক এবং উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *