খাস কলকাতায় এবার যোগী-মডেল! তিলজলায় বুলডোজার নিয়ে মুখ খুললেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন রণংদেহি মেজাজে ধরা দিল রাজ্য প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতের সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারিকে কার্যত বাস্তবায়িত করতে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই তিলজলার রাস্তায় নামল বুলডোজার। রাতারাতি অবৈধ কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য দিলীপ ঘোষ সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘সময়ের দাবি’ ও ‘অপরিহার্য’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
বেআইনি নির্মাণে জিরো টলারেন্স
নবান্নে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর থেকেই প্রশাসনের সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনজীবনকে বিপন্ন করে কোনো বেআইনি কারখানা বা নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “পরিস্থিতি আমাদের এই কঠোর কাজ করতে বাধ্য করেছে। আইন সবার জন্য সমান। অপরাধী যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কেউ ছাড় পাবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, খাস কলকাতায় এত দ্রুত বুলডোজার চলবে, তা হয়তো সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত ছিল। মূলত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই গড়ে ওঠা অবৈধ পরিকাঠামো নির্মূল করাই এখন প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
নিয়োগ ও খাদ্য প্রকল্পে বড় ঘোষণা
শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান নয়, এদিন পঞ্চায়েত দপ্তরে কর্মসংস্থান নিয়েও বড় আশার আলো দেখিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে পঞ্চায়েত দপ্তরগুলোতে দ্রুত সাড়ে ৬ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পূর্বতন সরকারের জমানায় প্যানেল থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ আটকে থাকার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, বকেয়া কাজ মেটাতে এবং কেন্দ্রীয় অর্থ সঠিকভাবে খরচ করতে এই নিয়োগ একান্ত প্রয়োজন।
পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জন্য পরিচালিত খাদ্য প্রকল্পেও বদল আনছে সরকার। ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্পে ডিম-ভাতের পাশাপাশি এবার মাছ-ভাতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৫ টাকার বিনিময়ে খাবারের গুণমান ও পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ জোর দিয়েছেন বলে মন্ত্রী জানান।
উন্নয়ন ও আইনি জটিলতা
শহরের থমকে থাকা পরিকাঠামো বিশেষ করে অরেঞ্জ লাইন মেট্রোর কাজ নিয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, আগের সরকার উন্নয়ন ও মহার্ঘ ভাতার মতো বিষয়গুলোতে বাধা দিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে সমস্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই মেট্রোর বকেয়া কাজ পুরোদমে শুরু হতে চলেছে। প্রশাসনের এই বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন বেআইনি কারবারের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে থমকে থাকা নাগরিক পরিষেবাও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।