বিধানসভার স্পিকার পদে রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর, মাস্টারস্ট্রোক উত্তরবঙ্গে

রাজ্য বিধানসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্পিকার বা অধ্যক্ষ পদের জন্য নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়ার মাঝেই বৃহস্পতিবার এই বড় ঘোষণাটি করেন তিনি। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের অভিজ্ঞ বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুকে এই সম্মানীয় পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই নেতাকে স্পিকার পদে বসানোর প্রস্তাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ওপর আস্থা ও সংসদীয় গরিমা
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম প্রস্তাব করে তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধানসভার গরিমা ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রক্ষায় রথীন্দ্রনাথ বসুর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন উত্তরবঙ্গের বিধায়ককে বিধানসভার সর্বোচ্চ অভিভাবকের পদে বসানোর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এর ফলে একদিকে যেমন উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ কাটবে, তেমনই অন্যদিকে ওই অঞ্চলে দলের ভিত আরও মজবুত হবে।
শুক্রবার স্পিকার নির্বাচন ও বিধানসভার প্রস্তুতি
গত মঙ্গলবার প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তাপস রায়। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মে, শুক্রবার বিধানসভার নতুন স্পিকার বা অধ্যক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্ধারিত দিনের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই নিজেদের প্রার্থীর নাম সামনে এনে বিজেপি নেতৃত্ব একধাপ এগিয়ে রইল। বর্তমানে বিধানসভায় বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলছে এবং জেলাভিত্তিক এই প্রক্রিয়ার মাঝেই স্পিকার নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও পাল্টাচাল
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপিকে বারবার ‘বাঙালিবিরোধী’ বা ‘বহিরাগত’ তকমা দেওয়ার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, রথীন্দ্রনাথ বসুর মনোনয়ন যেন তারই পাল্টা জবাব। উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্রকে সম্মান প্রদান এবং বিধানসভার অন্দরে মাছ-ভাতের মধ্যাহ্নভোজের মতো বিষয়গুলো দিয়ে বিজেপি প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা বাংলার সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধ। এক কথায়, তৃণমূলের ইস্যুভিত্তিক বিরোধিতাকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশলে টেক্কা দিতেই মুখ্যমন্ত্রী এই নাম প্রস্তাব করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, শুক্রবারের নির্বাচনে সর্বসম্মতিক্রমে রথীন্দ্রনাথ বসু স্পিকার নির্বাচিত হন কি না।