ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় এবার ‘উকিল’ মমতা! কলকাতা হাই কোর্টে বাড়ছে জল্পনা

দীর্ঘদিন পর আবারও চিরাচরিত সাদা শাড়ি আর কালো কোটে পেশাদার আইনজীবীর পোশাকে ধরা দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে চাঞ্চল্যকর এক আবহে তাঁকে দেখা যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি নিয়ে সওয়াল করতেই মূলত তাঁর এই আদালতে উপস্থিতি। নির্বাচনে পরাজয়ের পর এটিই প্রথম বড় কোনো আইনি লড়াইয়ে তাঁর সশরীরে অংশগ্রহণ।
আইনি লড়াইয়ে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক হারের পর এক সাংবাদিক বৈঠকে নিজেকে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ হিসেবে ঘোষণা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে, তিনি আবারও আইনজীবী হিসেবে রাজপথে এবং আদালতে নামবেন। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে এদিন তাঁকে কলকাতা হাই কোর্টের বারান্দায় আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে এবং মামলার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিষয়েও তিনি সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছিলেন।
ভোট পরবর্তী হিংসা ও আইনি গুরুত্ব
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর এবং কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলার শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করতে পারেন বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দলের কর্মীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিকার পেতে সরাসরি আইনি প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়া একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল। একদিকে যেমন এটি দলের কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে বিরোধী অবস্থানে থেকে আইনি পরিসরে শাসকদলের ওপর চাপ বজায় রাখার পথও প্রশস্ত হবে। এই ঘটনার প্রভাব রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।