উচ্চ মাধ্যমিকে মেধার জয়জয়কার, নজর কাড়ল নরেন্দ্রপুর ও পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন

উচ্চ মাধ্যমিকে মেধার জয়জয়কার, নজর কাড়ল নরেন্দ্রপুর ও পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রত্যাশামতোই মেধার লড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। চলতি বছরে মেধা তালিকায় বড়সড় চমক দিয়ে প্রথম দশটি স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন মোট ৬৪ জন পরীক্ষার্থী। মেধা তালিকার শীর্ষে রয়েছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র আদ্রিত পাল। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬। পাসের হারের নিরিখে জেলাগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রেখেছে পূর্ব মেদিনীপুর।

শীর্ষ দশে রামকৃষ্ণ মিশনের একাধিপত্য

চলতি বছরের ফলাফলে রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্ররা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। প্রথম স্থানাধিকারী আদ্রিত পালের পাশাপাশি দ্বিতীয় স্থানেও রয়েছে মিশনের জয়জয়কার। ৪৯৫ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় হয়েছেন পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের জিষ্ণু কুণ্ডু এবং নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ঋতব্রত নাথ ও ঐতিহ্য পাঁচাল। তৃতীয় স্থানে থাকা পাঁচজনের মধ্যে চারজনই রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। মেধা তালিকার প্রায় প্রতিটি ধাপে নরেন্দ্রপুর ও পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে এর মাঝেই বীরভূমের সিউড়ি পাবলিক স্কুলের শুভায়ন মণ্ডল তৃতীয় স্থান অর্জন করে নজর কেড়েছেন।

জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়া মেধা এবং নারীশক্তি

মেধা তালিকায় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পাশাপাশি জেলাগুলোর জয়জয়কার স্পষ্ট। হুগলি, বীরভূম, কোচবিহার এবং মুর্শিদাবাদের পরীক্ষার্থীরাও মেধা তালিকার ওপরের দিকে জায়গা করে নিয়েছেন। চতুর্থ স্থানে থাকা কলকাতা মাদ্রাসার গোলাম ফয়জাল এবং পঞ্চম স্থানে হুগলির শ্রীরামপুর রমেশচন্দ্র গার্লস হাই স্কুলের মেঘা মজুমদার নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। মালদহ, দার্জিলিং এবং বাঁকুড়ার ছাত্রছাত্রীরাও প্রথম দশে জায়গা করে নিয়ে প্রমাণ করেছেন যে সুযোগ ও পরিশ্রম থাকলে যে কোনো প্রান্ত থেকেই সাফল্য সম্ভব। এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফলাফলের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

উচ্চ মাধ্যমিকের এই ফলাফল রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর ৪৯০-এর বেশি নম্বর পাওয়া ভবিষ্যতে পেশাদার ও সাধারণ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে রামকৃষ্ণ মিশনের মতো আবাসিক স্কুলগুলোর এই অভাবনীয় সাফল্য রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়মানুবর্তিতা এবং সুশৃঙ্খল পঠনপাঠনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। জেলাগুলোর এই সাফল্য আগামীতে গ্রাম ও শহরতলীর শিক্ষার্থীদের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *