রাজনীতি আলাদা, সৌজন্যই শেষ কথা! আক্রান্ত তৃণমূল নেতাকে নিজের গাড়িতে হাসপাতালে নিলেন বিজেপি বিধায়ক

রাজনীতি আলাদা, সৌজন্যই শেষ কথা! আক্রান্ত তৃণমূল নেতাকে নিজের গাড়িতে হাসপাতালে নিলেন বিজেপি বিধায়ক

পূর্ব বর্ধমানের ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রে দেখা গেল এক বিরল রাজনৈতিক সৌজন্যের চিত্র। রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াইকে একপাশে সরিয়ে রেখে আক্রান্ত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর পাশে দাঁড়ালেন বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। বুধবার বিকেলে এড়ুয়ার গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি কর্মীদের হামলায় প্রাক্তন বিধায়ক আহত হয়েছেন বলে তৃণমূল দাবি করলেও, মানবিক খাতিরে বিপক্ষ দলের নেতাকে নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন বিজেপি বিধায়ক।

সংঘাতের সূত্রপাত ও হামলার অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ভাতার ব্লকের এড়ুয়ার গ্রামে তৃণমূল কর্মী চন্দন ঠাকুরের বাড়িতে একদল গ্রামবাসী চড়াও হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ওই কর্মীকে রক্ষা করতে সেখানে যান ভাতার আসনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী। অভিযোগ, সেই সময় একদল উন্মত্ত জনতা তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং তিনি শারীরিক আঘাত পান। তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের দাবি, পরিকল্পিতভাবে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে, এটি ছিল সাধারণ গ্রামবাসীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

বিরল সৌজন্য ও রাজনৈতিক তরজা

ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই কোনো কালক্ষেপ না করে মানগোবিন্দ অধিকারীর বাসভবনে পৌঁছে যান বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। প্রাক্তন বিধায়কের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তিনি নিজেই তাঁকে উদ্ধার করে নিজের গাড়িতে তুলে নেন এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে সৌমেন কার্ফা জানান, রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকলেও বিপদের দিনে প্রতিপক্ষ নেতার পাশে দাঁড়ানো তাঁর নৈতিক কর্তব্য।

তবে এই সৌজন্যের মাঝেও রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক দাবি করেছেন যে, বাড়ি তৈরির নাম করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রামবাসীরা চন্দন ঠাকুরের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং মানগোবিন্দ বাবু সেই জনরোষের মুখেই পড়েছিলেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। এই সৌজন্যের আবহ রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা প্রশমিত করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *