বুলডোজার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন আইনজীবী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

বুলডোজার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন আইনজীবী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

কলকাতার রাজপথে নয়, এবার বিচারালয়ের এজলাসে সওয়াল করতে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আইনজীবী হিসেবে কালো কোট গায়ে জড়িয়ে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে তিনি রাজ্যে চলমান অস্থিরতা ও ঘরবাড়ি ভাঙার তীব্র বিরোধিতা করেন। আদালতের কাছে তাঁর স্পষ্ট আর্জি, রাজ্যে যাতে ‘বুলডোজার রাজত্ব’ না চলে, তার জন্য অবিলম্বে আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।

আদালতে পেশ করা অভিযোগের বিবরণ

আদালতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে ১৬০টি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাথার ওপর থেকে ছাদ কেড়ে নেওয়ার এই সংস্কৃতিকে তিনি গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে ব্যাখ্যা করেন। শুধু ঘরবাড়ি ধ্বংসই নয়, নিরাপত্তার অভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, এমনকি আঠারো বছরের তরুণীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার মতো ঘৃণ্য ঘটনাও ঘটছে। এই সামাজিক ও প্রশাসনিক অরাজকতা বন্ধে আদালতের হস্তক্ষেপকে তিনি অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

আইনি সুরক্ষার দাবি ও সম্ভাব্য প্রভাব

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়ে বলেন, বিনা নোটিশে বা আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙা বা বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিচার বিভাগীয় কঠোর নির্দেশিকা প্রয়োজন। তিনি সাফ জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর এই পদক্ষেপ রাজ্যের প্রশাসনিক পদক্ষেপে বড়সড় আইনি বাঁক বদল ঘটাতে পারে। যদি আদালত ঘরবাড়ি ভাঙার ওপর কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন জারি করে, তবে তা সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় এক বড় জয় হিসেবে চিহ্নিত হবে। একইসঙ্গে, এই সওয়াল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *