মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান, নিরুত্তাপ শুভেন্দু! দিলেন দাপুটে জবাব

কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় সম্পূর্ণ নিস্পৃহ অবস্থান গ্রহণ করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল তৈরি হলেও, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে কার্যত গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রশাসনিক কাজের চাপের দোহাই দিয়ে তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার কৌশল নিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়ায় অনীহা ও প্রশাসনিক ব্যস্ততা
হাইকোর্টে ঘটে যাওয়া ওই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও শীতল উত্তর দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই ধরনের স্লোগান বা রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করার মতো সময় তাঁর হাতে নেই। তাঁর কথায়, “প্রচুর কাজের চাপ রয়েছে। এই সবের উত্তর দেওয়ার মতো সময় আমার কাছে নেই।” কোনো ধরনের পাল্টা আক্রমণ বা রাজনৈতিক বাদানুবাদে না জড়িয়ে তিনি কেবল নিজের দপ্তরের কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কৌশলী অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিরোধী নেত্রীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কিত ঘটনায় মন্তব্য না করা শুভেন্দু অধিকারীর একটি সুচিন্তিত কৌশল। সরাসরি কোনো মন্তব্য করলে আইনি বা রাজনৈতিক জটিলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে, যা নতুন সরকারের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরাসরি প্রতিক্রিয়ার বদলে ‘কাজের চাপ’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও কর্মঠ প্রশাসক হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
এই নিস্পৃহতা একদিকে যেমন বিরোধীদের তর্কের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে শাসক শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের কাছে বার্তা দিচ্ছে যে, সরকার এখন কেবল উন্নয়নের কাজেই মনোনিবেশ করতে আগ্রহী। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই নিরুত্তাপ ভঙ্গি আগামী দিনে শাসক-বিরোধী সম্পর্কের সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।