দশ দিনের রুদ্ধশ্বাস জল্পনা ছাপিয়ে কেরলমের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন

কেরলমের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন, সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভিডি সতীশনের নাম ঘোষণা করল কংগ্রেস হাই কম্যান্ড। তিরুবনন্তপুরমে টানা ১০ দিনের ম্যারাথন বৈঠক এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন লবির সঙ্গে আলোচনার পর এই হেভিওয়েট নেতার ওপরই আস্থা রাখল এআইসিসি। ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর সাম্প্রতিক নির্বাচনী জয়ের পর থেকেই এই পদ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা চলছিল।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার জয়
ছয়বারের বিধায়ক ভিডি সতীশন কেরলমের রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে প্রবীণ নেতা কেসি বেণুগোপাল এবং রমেশ চেন্নিথালার নাম জোরালোভাবে শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত পাল্লা ভারী হয় সতীশনের। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত পাঁচ বছর ধরে রাজ্যে দলের প্রধান মুখ হিসেবে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং এবারের নির্বাচনে ১০২টি আসনে জয়ের পেছনে তাঁর রণকৌশল হাই কম্যান্ডকে প্রভাবিত করেছে। দিল্লিতে কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, দলের সভাপতি সর্বসম্মতিক্রমে সতীশনকেই পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে মনোনীত করেছেন।
প্রভাব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করার এই সিদ্ধান্ত কেরলমে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। কর্নাটকের মতো ক্ষমতার টানাপোড়েন যাতে এখানে না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই তরুণ ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে থাকা এই নেতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যে জোট সরকারকে সংহত রাখা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সতীশনের মতো একজন গ্রহণযোগ্য নেতাকে সামনে রেখে কংগ্রেস দক্ষিণ ভারতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজভবনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর নতুন যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।