বর্ধমানবাসীর গর্ব, উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে তৃতীয় মেধাবী সৌম্য

উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে পূর্ব বর্ধমান জেলার সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হলো আরও তিন কৃতি ছাত্রের নাম। তাঁদের মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছেন বর্ধমান শহরের তেলমারুই পাড়ার বাসিন্দা সৌম্য রায়। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের এই ছাত্র এ বার উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে জেলা তথা গোটা রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্যের কাহিনি
সৌম্যর পড়াশোনার হাতেখড়ি বর্ধমান শহরেই। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে পড়ার পরে তিনি নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ভর্তি হন। মিশনের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন এবং শিক্ষকদের সঠিক দিশানির্দেশই তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন সৌম্য। রাজ্যজুড়ে সেরাদের তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করার খবর আসতেই খুশির হাওয়া তাঁর পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে।
সাধারণ পরিবারের অসাধারণ লড়াই
সৌম্যর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর বাবা-মায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম। তাঁর বাবা শ্যামল রায় পেশায় স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের একজন এজেন্ট এবং মা পার্বতী রায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সৌম্যর পড়াশোনায় তাঁরা কখনও খামতি হতে দেননি। মা-বাবার এই লড়াইকে মর্যাদা দিয়ে আগামী দিনে আইআইটিতে (IIT) ভর্তি হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন সৌম্য।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নিজের এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত সৌম্য জানিয়েছেন, নিয়মিত পড়াশোনা এবং বিষয়ের গভীরে গিয়ে ধারণা স্পষ্ট করাই ছিল তাঁর মূল কৌশল। ভবিষ্যতে দেশের প্রথম সারির আইআইটি থেকে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান তিনি। সৌম্যর পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের আরও দুই ছাত্রের উজ্জ্বল ফলাফল জেলাজুড়ে মেধাবী পড়ুয়াদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। শহরের সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে রাজ্যের শিখরে পৌঁছানোর এই কাহিনী অনেককেই অনুপ্রাণিত করবে।