ভারত-পাক আলোচনায় আরএসএস নেতার সওয়াল, স্বাগত জানালেন ফারুক-মেহবুবা; সরব কংগ্রেস

ভারত-পাক আলোচনায় আরএসএস নেতার সওয়াল, স্বাগত জানালেন ফারুক-মেহবুবা; সরব কংগ্রেস

সীমান্তপারের সন্ত্রাস দমনে কড়া অবস্থানের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন—আরএসএস সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবেলের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতি এই আহ্বানকে স্বাগত জানালেও, তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস।

কাশ্মীরি নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া

  • ফারুক আবদুল্লা: ন্যাশনাল কনফারেন্স সুপ্রিমো ফারুক আবদুল্লা আরএসএস নেতার এই অবস্থানকে ‘বিরাট পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি খুশি যে অবশেষে কেউ অনুধাবন করছেন যে যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। আলোচনার মাধ্যমেই আমাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরবণেও এই আলোচনার বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
  • মেহবুবা মুফতি: পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি হোসাবেলের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি তাঁর দলের দীর্ঘদিনের অবস্থানেরই জয়। তিনি অটল বিহারী বাজপেয়ীর সেই বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “বন্ধু বদলানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী নয়।” তিনি মনে করেন, জম্মু ও কাশ্মীরে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার বিকল্প নেই।

কংগ্রেসের তোপ ও ‘মার্কিন প্রভাব’ জল্পনা

আরএসএস নেতার এই মন্তব্যের পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জয়রাম রমেশ এবং মণীশ তিওয়ারি তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের দাবি:

  • দত্তাত্রেয় হোসাবেল সম্প্রতি আমেরিকা সফর করেছেন। কংগ্রেসের মতে, ওই সফরের প্রভাব এবং কোনো ‘পরাশক্তি’র চাপের কারণেই আরএসএস-এর সুর নরম হয়েছে।
  • মণীশ তিওয়ারি প্রশ্ন তুলেছেন, পহেলগাম হামলার পর পরিস্থিতি এমন কী বদলে গেল যে এখন পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন পড়ছে?
  • কংগ্রেস একে আরএসএস-এর ‘নকল জাতীয়তাবাদ’ বলে কটাক্ষ করেছে এবং দাবি করেছে যে, বাইরে এক রকম এবং দেশের ভেতরে অন্য রকম অবস্থান নিচ্ছে সংঘ।

হোসাবেলের মূল বক্তব্য

উল্লেখ্য, এক সাক্ষাৎকারে আরএসএস-এর ‘নম্বর টু’ হিসেবে পরিচিত দত্তাত্রেয় হোসাবেল বলেছিলেন যে, দেশের নিরাপত্তা ও আত্মসম্মান রক্ষায় কোনো আপস না করে এবং সন্ত্রাসের যোগ্য জবাব দিয়েও আলোচনার জানলা খোলা রাখা উচিত। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ (People-to-people contact) বৃদ্ধি করলে কূটনৈতিক জট কাটানো সহজ হতে পারে। পাকিস্তানের আমজনতার সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগসূত্রকে তিনি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। এই মন্তব্যে সমর্থন জানিয়েছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নরবণেও। তাঁর মতে, দুই দেশের সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো প্রায় এক এবং মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হলে দুই দেশের সম্পর্কেও উন্নতি ঘটবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *