বিধানসভার লবিতে সৌজন্যের মেজাজ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় কুণালের

শপথ গ্রহণের দিনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার লবি সাক্ষী থাকল এক বিরল রাজনৈতিক সৌজন্যের। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুখোমুখি হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিক্ততা সরিয়ে দুই নেতার এই হাসিমুখের কথোপকথন এবং সৌজন্য বিনিময় বিধানসভার অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসিমুখে কুশল বিনিময়
সূত্রের খবর, আজ শপথগ্রহণের পর বিধানসভার লবি দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা হয়ে যায় কুণাল ঘোষের। একে অপরকে সামনে দেখে থমকে দাঁড়ান দুজনেই। কুণাল ঘোষ সৌজন্য বজায় রেখে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “শুভেচ্ছা”। জবাবে চওড়া হাসি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীও কৌতুকের সুরে বলেন, “কী, শেষ পর্যন্ত জিতে গেলেন তো!” দুই নেতার এই সাবলীল কথাবার্তায় সেখানে উপস্থিত অন্যান্য বিধায়ক ও কর্মীরাও কিছুটা অবাক হন।
দিলীপ ঘোষের উষ্ণ অভ্যর্থনা
সৌজন্যের এই আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেন নবনিযুক্ত পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। লবিতে কুণাল ঘোষকে দেখতে পেয়ে তিনি নিজেই এগিয়ে যান এবং হাসিমুখে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। তৃণমূলের এই লড়াকু নেতার জয়ের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ব্যক্তিগত স্তরে তাঁদের এই হৃদ্যতা দেখে অনেকেই মনে করছেন, বিধানসভার অন্দরে অন্তত সুস্থ রাজনীতির পরিবেশ বজায় রাখতে দুপক্ষই ইতিবাচক।
সৌজন্য বনাম রাজনীতি
যদিও কুণাল ঘোষ শপথের পর জানিয়েছেন যে এখনই তিনি সরকারের বিরোধিতায় নামছেন না, তবুও শুভেন্দু-কুণাল সাক্ষাৎকে স্রেফ ব্যক্তিগত সৌজন্য হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। শপথের দিনের এই ‘চওড়া হাসি’ আগামী দিনে বিধানসভার বিতর্কে কতটা বজায় থাকে, সেটাই এখন দেখার। তবে নতুন সরকারের সূচনালগ্নে মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী বিধায়কের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু আন্তরিক আলাপচারিতা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন বাতাস বয়ে নিয়ে এসেছে।