বিধায়ক হয়েই বিস্ফোরক কুণাল, তাপস-সজলের দলত্যাগ নিয়ে সরাসরি তোপ নিজ দলেই

বিধায়ক হয়েই বিস্ফোরক কুণাল, তাপস-সজলের দলত্যাগ নিয়ে সরাসরি তোপ নিজ দলেই

শপথ গ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও নিজের দলের অন্দরের ক্ষত নিয়ে সরব হলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা নবনির্বাচিত বিধায়ক কুণাল ঘোষ। একদিকে তিনি যখন বিধানসভার লড়াইয়ে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, অন্যদিকে তেমনই দলের কিছু নেতিবাচক সিদ্ধান্ত ও রণকৌশল নিয়ে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ এবং ‘বিস্ফোরক’ পোস্ট করেছেন। তাঁর এই পোস্টে উঠে এসেছে তাপস রায় ও সজল ঘোষের মতো নেতাদের প্রসঙ্গ, যা তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

তাপস-সজলকে নিয়ে বড় মন্তব্য

এদিন বিধানসভার লবিতে সৌজন্য বিনিময়ের পর কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে লেখেন যে, আজকের প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় এবং বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষকে একটা সময় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে কার্যত বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি নাম না করে দলের একাংশের নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলে বোঝাতে চেয়েছেন যে, যোগ্য ও লড়াকু কর্মীদের সম্মান দিতে না পারার কারণেই তাঁরা আজ বিরোধী শিবিরে। কুণাল মনে করেন, এই ধরণের ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ দলের ক্ষতি করেছে এবং এর ফলে বিরোধী পক্ষ শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

আত্মবিশ্লেষণের ডাক ও কর্মীদের মনোবল

রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন:

  • নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কর্মীদের চাঙ্গা করতে হলে অবিলম্বে গঠনমূলক আত্মবিশ্লেষণ (Introspection) প্রয়োজন।
  • দলের কোথায় ত্রুটি ছিল এবং কেন দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা দল ছেড়েছেন, তা এড়িয়ে না গিয়ে মুখোমুখি স্বীকার করা উচিত।
  • শুদ্ধিকরণ ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমেই তৃণমূলকে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।

দলের অন্দরে প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেও দলের রণকৌশল নিয়ে এমন প্রকাশ্য সমালোচনায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রথম দিনেই কুণাল যেভাবে সজল ঘোষ বা তাপস রায়ের মতো বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের জন্য ‘সহানুভূতি’ দেখালেন, তাতে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। কুণাল অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি দলের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবেই এই অপ্রিয় সত্যগুলো তুলে ধরছেন। তবে তাঁর এই ‘বিস্ফোরক’ পোস্ট যে কালীঘাট ও নবান্নের অন্দরে বিতর্কের ঝড় তুলবে, তা নিশ্চিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *