নোটবন্দি থেকে গহনাবন্দি, এবার শুধু মানুষের শ্বাস বন্ধ হওয়া বাকি! মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেসের

নোটবন্দি থেকে গহনাবন্দি, এবার শুধু মানুষের শ্বাস বন্ধ হওয়া বাকি! মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেসের

সোনার গহনা কেনা বন্ধের আবেদন এবং আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পরিপ্রক্ষিতে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। এক সাংবাদিক সম্মেলনে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (AICC) সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মোদী সরকারের আমলে একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। নোটবন্দি, জিএসটি ও করোনার পর এবার দেশের কোটি কোটি মা-বোনদের অলঙ্কার শিল্পের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।

সোনা না কেনার পরামর্শ ও কর্মসংস্থানে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী রাজস্থানের বাঁশওয়াড়ায় বলেছিলেন যে বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে নারীদের ‘মঙ্গলসূত্র’ ছিনিয়ে নেবে। অথচ এর ঠিক দুই বছর পর, গত ১০ মে তেলেঙ্গানার এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেশের মা-বোনদের আগামী এক বছর সোনার গহনা না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন।

রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা জানান, ভারতের স্বর্ণ অলঙ্কার শিল্পের ৯০ শতাংশের বেশি ছোট ছোট দোকানদার, স্বর্ণকার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি (MSME) খাতের আওতাভুক্ত। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষ যুক্ত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আচমকা বার্তার কারণে ওবিসি ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির এই বিশাল সংখ্যক মেহনতি মানুষের রুজি-রুটির ওপর সরাসরি আঘাত আসবে এবং গোটা স্বর্ণ শিল্পে চরম মন্দা দেখা দেবে।

আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং কংগ্রেসের পাঁচ প্রশ্ন

কংগ্রেসের অভিযোগ, এক সপ্তাহের মধ্যেই সোনা ও রূপার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১৫ শতাংশ করেছে কেন্দ্র সরকার। একদিকে সোনা না কেনার পরামর্শ দিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজার সংকুচিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে সোনা চোরাচালানকারী মাফিয়াদের অবৈধ আয়ের রাস্তা প্রশস্ত করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিরোধী দল। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস সরকারের কাছে পাঁচটি নির্দিষ্ট বিষয়ে জবাব চেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে তিন কোটি মানুষের জন্য কোনো আর্থিক প্যাকেজ আছে কি না এবং দেশের লকআউটে পড়ে থাকা সোনাকে কাজে লাগিয়ে কেন ‘বুলিয়ান ব্যাংকিং ফ্রেমওয়ার্ক’ নীতি নেওয়া হচ্ছে না।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হয়ে যাবেন এবং পুরো অলঙ্কার শিল্পটি শেষ পর্যন্ত গুটিকয়েক বড় শিল্পপতির নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খতিয়ান তুলে ধরে সরকারের আর্থিক নীতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *