ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই বাতিল হতে পারে জাতি শংসাপত্র, রাজ্যজুড়ে জোর শোরগোল!

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই বাতিল হতে পারে জাতি শংসাপত্র, রাজ্যজুড়ে জোর শোরগোল!

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পূর্ববর্তী প্রশাসনের একাধিক নিয়ম ও নীতিতে বড়সড় বদল আনছে বর্তমান রাজ্য সরকার। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার আগের সরকারের আমলে দেওয়া জাতি শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট) যাচাই করার এক নজিরবিহীন নির্দেশ দিল রাজ্য প্রশাসন। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের জাতি শংসাপত্র কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হবে এবং তথ্যে অসঙ্গতি থাকলে তা সরাসরি বাতিল করা হতে পারে।

শুক্রবার রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসকদের (ডিএম) কাছে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ২০১১ সাল থেকে এই পর্যন্ত যত জাতি শংসাপত্র বিলি করা হয়েছে, তার সবকটি নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। যে ব্যক্তিদের নামে এই শংসাপত্রগুলি ইস্যু করা হয়েছিল, তাদের সমস্ত নথিপত্র পুনরায় যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই সরকারি চিঠিতে।

নির্ভরশীলদের নথিতেও কড়া নজর

নবান্নের জারি করা এই নির্দেশিকায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। শুধু মূল শংসাপত্র প্রাপকই নন, যিনি বা যাঁরা এই শংসাপত্র পেয়েছেন তাঁদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জাতি শংসাপত্রও সমানভাবে খতিয়ে দেখা হবে। ফলে একটি শংসাপত্র বাতিল হলে তার সূত্রে তৈরি হওয়া পরিবারের বাকিদের শংসাপত্রও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের মুখে পড়তে পারে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়লে কোপ

প্রশাসন সূত্রে খবর, বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার ওপর। এই প্রক্রিয়ার জেরে সম্প্রতি যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের জাতি শংসাপত্রগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এবং গভীরভাবে স্ক্রুটিনি বা খতিয়ে দেখার নির্দেশ জারি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে যদি দেখা যায় যে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে গলদ রয়েছে এবং সেই কারণে ভোটার তালিকায় নাম নেই, তবে আইনানুগভাবে তাঁর জাতি শংসাপত্র বাতিল করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রশাসনিক মহলের মতে, ভুয়া নথির সাহায্যে বা নিয়মের তোয়াক্কা না করে অতীতে যারা অনৈতিকভাবে জাতি শংসাপত্র হাতিয়ে নিয়েছিল, তাদের চিহ্নিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। এর ফলে প্রকৃত সংরক্ষিত শ্রেণীর মানুষেরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ হবে। তবে এই ব্যাপক স্তরের পুনর্বিন্যাস ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার কারণে জেলা প্রশাসনগুলোর ওপর কাজের চাপ যেমন বহুগুণ বাড়বে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও নথিপত্র পুনর্নবীকরণ নিয়ে এক ধরণের উদ্বেগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *