পদকজয়ী ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মনের বাড়ি পুড়ে ছাই, ভোট পরবর্তী হিংসায় ছড়ালো তীব্র উত্তেজনা!

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক পারদ পতন ও উত্তেজনার পালা। তবে এবার সেই ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার আঁচ এসে পড়ল দেশের এক গৌরবোজ্জ্বল ক্রীড়াবিদের ওপর। রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী তথা এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলেট স্বপ্না বর্মনের পাতকাটা কলোনির বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতের এই নৃশংস ঘটনায় স্বপ্নার পৈতৃক ভিটেমাটি কার্যত পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন স্বপ্না। এবার রাজগঞ্জ কেন্দ্র থেকে শাসকদলের তিন ক্রীড়াবিদ প্রার্থীর অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। অভিযোগ, ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই স্বপ্নার মোবাইলে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরপরই শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর জলপাইগুড়ির বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
জেলের ভেতর থেকে নয়, মাঠের হিংসা গ্রাস করল স্বপ্নার ঘর
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার দাবি করছে যে, দলের কোনো কর্মী সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, রাজগঞ্জের এই ঘটনাই তার প্রমাণ। আগুনে স্বপ্নার বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র এবং নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের চরম হতাশা ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই তারকা অ্যাথলেট। স্বপ্না বর্মনের দাবি, রাজনীতিতে আসার পরিণতি যে এমন ভয়াবহ হতে পারে, তা তিনি আগে কখনো কল্পনাও করেননি।
হিংসার কারণ ও এর সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত নির্বাচনে রাজনৈতিক দলবদলের জের এবং ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিপক্ষ শিবিরের ওপর রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে, রাজনীতিতে যোগ দেওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো, যা আগামী দিনে সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজ্যের ভাবমূর্তিকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে।