আরজি করের ফাইল খোলায় আশার আলো দেখছে কালীগঞ্জের নিহত তামান্নার পরিবারও, এবার কি তবে মিলবে সুবিচার

আরজি করের ফাইল খোলায় আশার আলো দেখছে কালীগঞ্জের নিহত তামান্নার পরিবারও, এবার কি তবে মিলবে সুবিচার

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বড় পদক্ষেপ নজর কাড়ছে আমজনতার। মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই একাধিক পুরনো ও সংবেদনশীল মামলার ফাইল নতুন করে খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই তালিকায় আরজি কর ধর্ষণ ও খুনের মামলার মতো অত্যন্ত চর্চিত ঘটনাটি শীর্ষে রয়েছে। ইতিধ্যেই এই মামলার তদন্তের স্বার্থে তিনজন হেভিওয়েট আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে নতুন সরকার। সরকারের এই অনমনীয় মনোভাব শুধু আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারকেই নয়, কালীগঞ্জের রাজনৈতিক হিংসায় নিহত নাবালিকা তামান্নার পরিবারকেও নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।

তদন্তে তৎপরতা ও নবান্নের কড়া বার্তা

নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আরজি করের ঘটনায় পূর্বতন সরকারের ভূমিকা, কার কী নির্দেশ ছিল এবং কাদের যোগাযোগ ছিল, তার সমস্ত কিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে। তৎকালীন উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ফোন রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটও এই তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের এই কড়া বার্তা ও পুলিশ কর্তাদের সাসপেনশনের সিদ্ধান্তই কালীগঞ্জের নিহত নাবালিকার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে নতুন করে আইনি লড়াইয়ের ভরসা জুগিয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর সঠিক বিচার পেতে তিনিও এখন রাজ্য সরকারের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন।

রাজনৈতিক সংঘাত ও তামান্না হত্যাকাণ্ড

গত বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ থেকে বামপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাবিনা ইয়াসমিনের মেয়ে তামান্নার মৃত্যু হয়েছিল একটি রাজনৈতিক বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে। কালীগঞ্জের উপনির্বাচনে শাসকদলের জয়ের পর আয়োজিত ওই বিজয় মিছিল থেকে সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে, যার জেরে প্রাণ হারায় ছোট্ট তামান্না। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল। আরজি কর মামলার ফাইল পুনরায় খোলার পর তামান্নার মা দাবি তুলেছেন, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর ফাইলটিও যেন সমভাবে গুরুত্ব দিয়ে খোলা হয় এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হয়।

যৌথ লড়াই ও প্রশাসনিক প্রভাবের সম্ভাবনা

এই লড়াইয়ে এখন আরজি করের নির্যাতিতার পরিবার ও তামান্নার পরিবার একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। আরজি করের নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা, যিনি বর্তমানে জলহাটির বিধায়ক, তিনি তামান্নার মায়ের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো মামলাগুলির ফাইল নতুন করে খোলায় একদিকে যেমন প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট হচ্ছে, ঠিক তেমনই পূর্বতন আমলের বহু প্রভাবশালীর ওপর আইনি চাপ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, এই প্রশাসনিক তৎপরতা আগামী দিনে কত দ্রুত এই পরিবারগুলিকে কাঙ্ক্ষিত সুবিচার এনে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *