আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে মরিয়া তৃণমূল, ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে এবার চালু হলো হেল্পলাইন

আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে মরিয়া তৃণমূল, ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে এবার চালু হলো হেল্পলাইন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দিকে দিকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর, ঘরছাড়া করা এবং লাগাতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ও নিপীড়িত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের আইনি ও প্রশাসনিক সাহায্য পৌঁছে দিতে এবার একটি বিশেষ ডেডিকেটেড হেল্পলাইন নম্বর চালু করল তৃণমূল নেতৃত্ব।

রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কর্মীদের ওপর হওয়া এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ইতিমধ্যেই দলের পক্ষ থেকে তিনটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ বা তথ্য অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলি বিভিন্ন জেলা সফর করে সরাসরি আক্রান্তদের বাড়ি পরিদর্শন করবে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা হিংসার শিকার হওয়া পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াবে।

আদালতের দ্বারস্থ নেতৃত্ব ও পুলিশের ওপর বড় দায়িত্ব

রাজনৈতিক এই সংঘাতের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ এনে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন, যার শুনানিতে স্বয়ং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজের বক্তব্য পেশ করেন। মামলার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, অশান্তির কারণে যাঁদের ঘরবাড়ি বা দোকানপাট ভাঙচুর হয়েছে কিংবা যাঁরা এলাকাছাড়া হয়েছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে ঘরে ফেরানোর মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে পুলিশ প্রশাসনকেই।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকেই রাজনৈতিক ও আইনি মান্যতা দিয়ে বর্তমান প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে বিরোধী শিবির। আদালতের এই কড়া বার্তার পর মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ওপরই আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *