আরজি কর ফাইল খুলতেই ৩ আইপিএস সাসপেন্ড, এবার মমতার গ্রেফতারির দাবিতে সরব নির্যাতিতার মা

আরজি কর ফাইল খুলতেই ৩ আইপিএস সাসপেন্ড, এবার মমতার গ্রেফতারির দাবিতে সরব নির্যাতিতার মা

আরজি কর মামলার ফাইল নতুন করে খুলতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্তের গতি বাড়তেই তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি কর ফাইল খোলার কথা ঘোষণা করার পরপরই এই ৩ হেভিওয়েট আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মেয়ের বিচারপ্রক্রিয়া গতি পাওয়ায় এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন নির্যাতিতার মা তথা জলহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ।

প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ও আসল মাথার খোঁজ

৩ জন আইপিএস অফিসার সাসপেন্ড হওয়ার ঘটনাকে কেবল শুরু বলে মনে করছেন নির্যাতিতার মা। তাঁর দাবি, ঘটনার রাতে সেমিনার রুমে উপস্থিত থাকা সোমনাথ, বীরুপাক্ষ, প্রসূণ চট্টোপাধ্যায় এবং দেবাশিষ সোম সহ একাধিক ব্যক্তি এখনও সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। একই সঙ্গে সেদিন রাতে নির্যাতিতা কার সঙ্গে রাতের খাবার খেয়েছিলেন, সেই সহকর্মীদের পরিচয় এখনও আড়াল করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। রত্না দেবনাথের স্পষ্ট দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই ব্যক্তিদের আড়াল করে রেখেছিলেন। এছাড়া নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা ঘটনার সমস্ত প্রমাণ লোপাট করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন।

ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

তদন্তের এই নতুন মোড় এবং নির্যাতিতার মায়ের বয়ান তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রত্না দেবনাথের অভিযোগ, ঘটনার দিন টালা থানায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং শ্মশানে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে দেওয়া প্রশংসা প্রমাণ করে যে এই সবকিছু একটি নির্দিষ্ট নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। বিনীত গোয়েলের ফোনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এই গোটা দুর্নীতির নেপথ্যে মূল মাথা ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। এই ক্ষোভ ও দুর্নীতির কারণেই মানুষ তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে মামলার সমস্ত ফাইল তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন নির্যাতিতার মা। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে রাজ্য প্রশাসনে এবং রাজনৈতিক স্তরে আরও বড় ধরনের রদবদল ও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *