আড়াই ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে মোদীর ম্যাজিক, ভারত পাচ্ছে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ

বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা জ্বালানি সংকটের মেঘ কাটাতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সফল কূটনৈতিক সফর সম্পন্ন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাঁচ দেশ সফরের প্রথম প্রহরেই শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) পা রাখেন তিনি। মাত্র আড়াই ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফর হলেও ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া টালমাটাল বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য এটি এক বড়সড় কৌশলগত জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের শক্তি ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে একগুচ্ছ ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত চুক্তি
বর্তমানে ইরান ও ইজরায়েল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের হরমজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেলের বাজারে। এই চরম অনিশ্চয়তার আবহে ভারতের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবুধাবির সঙ্গে এলপিজি (LPG) সরবরাহ এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার নিয়ে চুক্তি করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ওপেকের (OPEC+) বাইরে গিয়ে আমিরশাহির এই সহযোগিতা ভারতের বাজারে তেল ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন জোগান বজায় রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক’-এ সায় দিয়েছে দুই দেশ, যার আওতায় সাইবার ডিফেন্স, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং মেরিটাইম সিকিউরিটিতে যৌথভাবে কাজ করবে দিল্লি ও আবুধাবি।
৫০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন
এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ভারতে ৫০০ কোটি ডলার (৫ আরব ডলার) বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে আমিরশাহি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ভারতের পরিকাঠামো এবং আর্থিক খাতের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এছাড়া গুজরাটের ভাদিনারে একটি বিশাল জাহাজ মেরামতি কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এসেছে এই সফরে। ভারতে ৮টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (AI) সুপার কম্পিউটার স্থাপনে একমত হয়েছে দুই দেশ। পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি ও স্টার্টআপ খাতের বিকাশ নিয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দেওয়া হয়েছে বিরল রাষ্ট্রীয় সম্মান, যেখানে আমিরশাহির আকাশে তাঁর বিমানকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। সে দেশে বসবাসকারী প্রায় ৪৫ লক্ষ ভারতীয়র স্বার্থ রক্ষার বিষয়েও কথা বলেছেন তিনি। আমিরশাহির সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন, যেখানে তাঁর মূল লক্ষ্য থাকবে গ্রিন ট্রানজিশন, ক্লিন এনার্জি এবং ভারত-নর্ডিক শিখর সম্মেলনে যোগ দেওয়া।