এবার আইনি বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকির অভিযোগে দায়ের এফআইআর

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক উত্তাপ কমলেও আইনি লড়াইয়ের এক নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মীর লিখিত অভিযোগ এবং তাঁর জমা দেওয়া ভিডিও ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে রাজ্য পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বেশ কয়েকটি জামিন অযোগ্য ধারাসহ মোট পাঁচটি ধারায় এই মামলা রুজু হওয়ায় তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার আইনি জটিলতা বৃদ্ধির প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মূল কারণ
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন চলাকালীন বিভিন্ন জনসভা ও প্রচারের মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন। গত ৫ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক পরের দিনই বাগুইআটি থানায় এই বিষয়ে প্রথম লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগকারী সমাজকর্মী তাঁর দাবির সপক্ষে অভিষেকের বক্তৃতার ডিজিটাল লিঙ্ক ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে পেশ করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে সাইবার ক্রাইম থানা এই হাই-প্রোফাইল মামলাটি নথিভুক্ত করে, যা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভোটের ফল প্রকাশের পর যখন নতুন সরকার গঠন ও ক্ষমতার অলিন্দে সমীকরণ বদলের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ে শাসকদলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’-এর বিরুদ্ধে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইনজ্ঞদের মতে, জামিন অযোগ্য ধারা থাকায় এই মামলা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে এবং আইনি লড়াইয়ের জল বহুদূর গড়াতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবির যেমন রাজনৈতিক আক্রমণ শানানোর সুযোগ পাচ্ছে, তেমনই শাসক শিবিরের অভ্যন্তরেও রণকৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই এফআইআর প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।